Monday, September 23, 2019
Home > রাজনীতি > ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ডাক রিজভীর

ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ডাক রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশি-বিদেশি চক্রান্তের শিকার এমন অভিযোগ করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সাজা হিসেবে খালেদা জিয়াকে এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছর কারাগারে রাখার নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। এটি জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেত্রীর বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি শক্তির নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলা। বেগম জিয়ার মুক্তি আইন ও বিচারের ওপর নির্ভরশীল নয়, এটি নির্ভরশীল শেখ হাসিনার মর্জির ওপর। সুতরাং আইন আদালতকে প্রভাবিত করেই বেগম জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমরা এই মুহুর্তে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি, মঞ্চ, গণমাধ্যম ও ব্রিফিংয়ে বিএনপির কী করা উচিৎ, বিএনপির পরিণতি কী হবে, বিএনপি নির্বাচন ভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে ইত্যাদি নানা কথার খই ফুটাচ্ছেন প্রতিদিন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব শালীনতা-ভব্যতার গুণমান বিবেচনা না করে বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত উপদেশের ভাঙা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন। ‘মিডনাইট ইলেকশনে’র সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হতে চলেছেন।’
রিজভী বলেন, ‘খামোখা আওয়ামী লীগে থেকে তার লাভ কী, বরং ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির দরজা খোলা আছে। এমনিতেই অনাচারের পাহাড়সম স্তূপে আওয়ামী নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত, কখন কী হয় আতঙ্কে তাদের সারাদিন কাটে। বিভিন্ন এলাকায় তারা তলে তলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখা শুরু করেছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীরা আসলেই উদ্বিগ্ন।’
সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি সংসদে না গেলেও প্রতিনিয়ত বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে’। এদেশে বাক-স্বাধীনতা শুধু একজনেরই আছে, তিনি হলেন ‘মিডনাইট ভোট’ এর প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবার বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন। বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে নির্বাচনী ময়দান শূন্য করার পর বিজয় তো প্রত্যাশিত হবেই। রাতে ভোটারদের ঘুমানোর সময় প্রশাসন ও পুলিশ ব্যালট বাক্স পূর্ণ করলে সেই ভোট তো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়ই, কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবাধে ব্যালট পেপারে সুষ্ঠুভাবে সিল মারতে পারে। ভোটের দিনের ভোট ‘আউট সোর্সিং’ করে আগের দিন রাতে ব্যালট বাক্স ভরে দিয়ে তো ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করলে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু তো হবেই। তবে শেখ হাসিনা ও দলের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলেনি। এমনকি মহাজোটের শরীকরাও এখন বলছে যে, ভোট হয়েছে আগের দিন রাতেই। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ক্ষমতা-ক্ষুধা গ্রাস করেছে গণতন্ত্রকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *