Monday, October 14, 2019
Home > জাতীয় সংবাদ > দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি

দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট থেকে শিক্ষা সমাপনকারী গ্র্যাজুয়েটদের সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ যেন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, তারা তাদের মেধাকে যেন দেশের কাজে লাগান। দেশে শিক্ষা গ্রহণ করে বিদেশে যেন চলে না যান। দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার বিকালে বুয়েটের ১১তম সমাবর্তনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা সব সময় বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। তবে কখনও মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ দিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখবে না।
তিনি বলেন, অন্যায় ও অসৎ পথের অর্জন ক্ষণস্থায়ী, এতে কোনো সম্মান নেই। আছে জীবনভর অনুশোচনা। সবকিছু করবে নিজের মেধা ও আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়ে।
বুয়েট প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা হবে তরুণ প্রজন্মের আদর্শ। সেই আদর্শে নবীনরা উজ্জীবিত হবে। তোমরা বড় হও, কর্মে আগামী দিনগুলো উজ্জ্বল হোক আমি সেই দোয়া করছি।
আবদুল হামিদ বলেন, ডেভেলপমেন্টের কথা বলা হলে এখানে ইঞ্জিনিয়ারদের বেশি প্রয়োজন। আজকাল রাস্তা করার পরই ভেঙে যাচ্ছে, ছাদ ধসে যাচ্ছে, এগুলো যাতে না হয় সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যদি উন্নত বিশ্বে যেতে চাই, যা আমাদের স্বপ্ন, তাহলে সবার সৎ থাকতে হবে। পাশাপাশি সবার অ্যাকটিভও থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি চাই বুয়েট শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে যাতে অবস্থান নিতে পারে।
নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্র আমি ভালো ছিলাম না। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হই নাই। আমি ইন্টারমিডিয়েটে এক বিষয়ে লজিকে (যুক্তিবিদ্যা) রেফার্ড পাইছিলাম। তখন সারাদেশের রেফার্ড বিষয়ের পরীক্ষাগুলো ঢাকা কলেজে নেয়া হতো। তাই এক বিষয়ে ঢাকা কলেজে রেফার্ড পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসে বুয়েটের শেরেবাংলা হোস্টেলে স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের (শালার) রুমে উঠি। এক-দেড় মাস হোস্টেলে থাকার সুবাদে সবাই জেনে যায় আমি একজনের দুলাভাই লাগি। তারা আমারে দুলাভাই ডাকে আর আমি পাইকারিভাবে শালা ডাকতাম।
তখনকার দেড় মাসে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময় বুয়েটে কোনো নারী শিক্ষার্থী ছিল না। বর্তমানে প্রায় ৩০ ভাগ শিক্ষার্থী ছাত্রী। দেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এটাই তার প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *