Monday, September 23, 2019
Home > অান্তর্জাতিক > ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটে ফের হেরে গেছেন থেরেসা মে

ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটে ফের হেরে গেছেন থেরেসা মে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া প্রশ্নে ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটে আবারো হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদন হলে মে’র পদত্যাগের ঘোষণা সত্ত্বেও এমপিরা ফের ব্রেক্সিট চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ নিয়ে তৃতীয় দফা ভোটে হারলেন মে।
বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার হাউজ অব কমন্সে ভোটাভুটিতে চুক্তির পক্ষে পড়েছে ২৮৬ এবং বিপক্ষে পড়েছে ৩৪৪ ভোট।
এর ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে আরো অনিশ্চয়তায় পড়ল যুক্তরাজ্য। ব্রেক্সিট কখন হবে কিংবা আদৌ ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যেতে পারবে কি না তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ল।
ইইউ আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যকে বিকল্প কোনো পথ তৈরি করার জন্য সময় দিয়েছিল। কিন্তু ইইউ’র দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চুক্তি পাসে ব্যর্থ হলো মে’র সরকার।
যুক্তরাজ্যের লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এখন ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় পরিবর্তন অথবা থেরেসা মেকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
এর আগে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে শুক্রবারের এ ভোটকেই শেষ সুযোগ বলে পার্লামেন্টকে জানিয়েছিলেন মে। এ চুক্তি পাস না হলে ব্রেক্সিটে কোনোরকম দেরীর ক্ষেত্রে তা ১২ এপ্রিলের পর পর্যন্ত পিছিয়ে যাবে বলে সতর্ক করে দিয়ে ছিলেন তিনি।
ভোটে পরাজয়ের পর মে বলেছেন, ‘আমি মনে করি হাউজের প্রতিটি সদস্যের জন্যই এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমরা আবারো সুশৃঙ্খলভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছি।
ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের হাতে সময় আছে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কোনো আইন করা কিংবা কোনো চুক্তি অনুমোদন করা সম্ভব নয়। এখন বিকল্প কোনো পন্থায় এগোতে হবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীকে।
যেহেতু অধিকাংশ এমপি চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। তাই বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আগামী সোমবার ফের ভোট হবে এবং যুক্তরাজ্যকে একটি বিকল্প খুঁজে পেতে হবে বলে জানিয়েছেন মে।
এর আগে গত বুধবার ব্রেক্সিট চুক্তি পাসে প্রয়োজনীয় সমর্থনের বিনিময়ে পদত্যাগে সম্মত হয়েছিলেনন থেরেসা মে। ওইদিন রক্ষণশীল দলের এমপিদের এক বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু তার পরও শুক্রবার পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে মে তার নতুন প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায় করতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন সে দেশের ভোটাররা।
প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫২ শতাংশ ভোট দিয়েছিল চার দশকের সম্পর্ক ছেড়ে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তাদের যুক্তি ছিল, ইইউ’র অন্য দেশগুলোকে টানতে গিয়ে তাদের অনেক পাউন্ড খরচ হয়ে যাচ্ছে।
ওই গণভোটে হারের পর পদত্যাগ করেন, রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এরপর থেরেসা মে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিকল্পনা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। এজন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল চলতি বছরের ২৯ মার্চ।
কিন্তু পার্লামেন্টে দুই দুইবার ওই রূপরেখা পাস করাতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে থেরেসা মে ব্রেক্সিটের দিনক্ষণ ৩০ জুন পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করে ইইউতে চিঠি দেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়।
কিন্তু ততীয় দফায়ও পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া অনুমোদন না পাওয়ায় তা ঝুলে গেল। এখন চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে হতে পারে যুক্তরাজ্যকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *