Tuesday, September 17, 2019
Home > অান্তর্জাতিক > ব্রেক্সিট নিয়ে আরো অনিশ্চয়তায় ব্রিটেন

ব্রেক্সিট নিয়ে আরো অনিশ্চয়তায় ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তাবে আবারো একমত হতে পারেননি পার্লামেন্ট সদস্যরা।
বিবিসি জানিয়েছে, জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চুক্তির বিকল্প হিসেবে যে প্রস্তাব ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে করেছেন তার কোন একটি গ্রহণের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসতে ব্যর্থ হন এমপিরা।
ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তারা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো প্রস্তাবে একমত হতে পারেননি। এর ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে আরো অনিশ্চয়তায় পড়ল যুক্তরাজ্য।
এর আগে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের সদস্যরা গত সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।
ব্রেক্সিট পাস হলে প্রধানমন্ত্রী মে পদত্যাগ করবেন, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্বেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে হাউজ অব কমন্সে কাস্টমস ইউনিয়ন এবং নরওয়ে পদ্ধতির ব্যবস্থাপনায় ব্রিটেনকে একক বাজার ব্যবস্থায় রাখাসহ চার বিকল্প প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়। কিন্তু এতে একটি প্রস্তাবও পাস হয়নি।
হাউজ অব কমনসের নীতি নির্ধারণী এমপিদের চার ঘণ্টা বিতর্কের পর সবগুলো প্রস্তাব অল্প ভোটের ব্যবধানে বাতিল হয়ে যায়। এখন ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ব্রিটেনের ব্রেক্সিটমন্ত্রী স্টিভেন বার্কলে বলেছেন, ১২ এপ্রিল কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করবে এখনো সেই পরিস্থিতিই বিদ্যমান।
এখন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় বৈঠক হবে। ব্রেক্সিটের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
আগামী ১২ এপ্রিল ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে ব্রিটেনের। তাই থেরেসা মে’কে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে হয় ইইউ’র কাছ থেকে ব্রেক্সিটের জন্য সময় বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে না হলে চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যুক্তরাজ্যকে।
এদিকে সুশৃঙ্খলভাবে ইইউ থেকে বের হওয়া নিশ্চিত করতে চলতি সপ্তাহে মে তার চুক্তি প্রস্তাব চতুর্থবারের মতো ভোটাভুটির জন্য পার্লামেন্ট উপস্থাপন করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন সে দেশের ভোটাররা। প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫২ শতাংশ ভোট দেন চার দশকের সম্পর্ক ছেড়ে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তাদের যুক্তি ছিল, ইইউ’র অন্য দেশগুলোকে টানতে গিয়ে তাদের অনেক পাউন্ড খরচ হয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *