Monday, September 23, 2019
Home > Uncategorized > দেশে থাকার জন্যই অভিযোগ করেছি – প্রিয়া সাহা

দেশে থাকার জন্যই অভিযোগ করেছি – প্রিয়া সাহা

এপিপি বাংলা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। আলোচনা-সমালোচনা সর্বত্র। এর মধ্যেই নিজের দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেত্রী প্রিয়া সাহা। তিনি বলেছেন, তার বক্তব্যের পর হুমকি আসছে, হয়রানির মুখে পড়েছে পরিবার। তারপরও তিনি দেশে ফিরে আসবেন। দেশে থাকার জন্যই তিনি ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। প্রিয়া সাহা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা থাকার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ড দেখেই প্রিয়া সাহা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। প্রিয়া দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ই-মেইল পেয়ে তিনি সেখানে যান। ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে যান নি। ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে বিতর্ক চলছে চারদিকে। তার বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ বলে শনিবার ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু গতকাল তিনি জানিয়েছেন প্রিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তড়িঘড়ি করে কোনো ব্যবস্থা না নিতেও বলেছেন তিনি। গতকাল প্রিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দুটি মামলার আবেদন করা হলেও তা খারিজ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এক ফেসবুক বার্তায় প্রিয়ার ওই বক্তব্যের পেছনে মার্কিন দূতাবাসের দুরভিসন্ধি থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রিয়ার বক্তব্য ভয়ঙ্কর মিথ্যা বলেও দাবি করেন জয়।

এদিকে, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রিয়া ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন অনেকটা তার পক্ষেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন গতকাল এ ভিডিও বার্তায়। অনেকটা প্রশ্নোত্তরধর্মী এ বার্তায় একজন প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে পুরো বিষয় ব্যাখ্যা করেন।

প্রশ্নকারী প্রিয়াকে প্রশ্ন করেন আপনি কেমন আছেন, জবাবে তিনি বলেন, আমি ভালো নাই। আপনারা দেশে আছেন, প্রতিটা বিষয় আপনারা অবজারভ করছেন যে, প্রতিটা বিষয় কি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদ মাধ্যম বা বিভিন্ন ব্যক্তি, সকল পর্যায় থেকে সে ব্যাপারে আপনারা ওয়াকিবহাল। আমার পরিবার ভীষণ সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কারণ বাসার সামনে কালকে তালা ভাঙতে চেষ্টা করা হয়েছে, আমার বাসার সামনে মিছিল করা হয়েছে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো যে আমার পরিবারের ছবি ছেপে দেয়া হয়েছে পত্রিকায়। কথা বলেছি আমি, তারা আমার ছবি দিতে পারতো। কিন্তু আমার পরিবারের ছবি পত্রিকায় দিয়ে তাদের সবার জীবনকে বিপন্ন করে ফেলা হয়েছে। প্রিয়া বলেন, বাসার সামনে ব্যাপক পরিমাণে লোকজন ছিল বিভিন্নভাবে। দারোয়ান তালা দিয়ে রেখেছিল কিন্তু তালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, হুমকি দিয়ে গেছে কালকে বাসা সিলগালা করে দিবে। এসব অনেক অনেকভাবে কথাবার্তা বলছে সেটা আপনারা জানেন, আপনারা দেশে আছেন, আপনারা একটু চাইলেই খোঁজ করতে পারেন।

প্রশ্নকারী জানতে চান আপনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন কিভাবে? কারা আপনাকে পাঠিয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ? জবাবে প্রিয়া বলেন, না। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আমাকে পাঠায় নি। এবং আমাকে আইআরএফ থেকে সরাসরি ই-মেইল করা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে আমাকে ইনভাইট করে…এই স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে ইনভাইট করে তারা নিয়ে আসছে এখানে। তাদের ইনভাইটেশনে আমি এখানে আসছি। তিনি বলেন, রানা দা জানে না। কাজল দা, রানা দা ঐক্য পরিষদের কেউ ব্যাপারটা জানে না যে আমি এখানে এসেছি। এবং আমি যে আসবো সেটাও আমি যেদিন আসছি তার আগের দিনও জানতাম না যে আমি আসবো। মানে আসলেই বলতে পারেন ব্যাপারটা আমি হঠাৎ করেই আসছি। আমি ই-মেইল পেয়েছি, আমাকে ইনভাইটেশন দিয়েছে, সেই ইনভাইটেশনের মাধ্যমে আমি আসছি।

আপনি এই ই-মেইলটা কবে পেয়েছেন? এমন প্রশ্নে প্রিয়া বলেন, ই-মেইল পেয়েছিলাম ১৪ তারিখে গত মাসের। কিন্তু আমি আসলে ওভাবে রেসপন্স করিনি। তারপর বারবার তারা মেইল করেছে এবং আমি এসেছি যেদিন সেদিন আমি আসলে সন্ধ্যার পরে এসেছি। এটা কি আপনার প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নাকি আগেও গিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না আমি বহুবার যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের স্কলারশিপে আমি আইভিএলপি প্রশিক্ষণে এসেছিলাম ২০১৪ সালে।

আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে এই কথাগুলো কেন বললেন? যেটা নিয়ে শোরগোল পড়ছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে এ কথাগুলো তো আমি কেন বলি প্রথমে তো এই কথাগুলো তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপরে নির্বাচনোত্তর চরম নির্যাতন চলছিল ৯৪ দিন ধরে তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী…সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষার জন্য ঘুরেছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার অনুসরণে বলেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো জায়গায় বলা যায় আমি তার কাছ থেকে শিখেছি। আপনি এও জানেন তখনকার সাম্প্রদায়িক সরকার ২০০১ সালে আমাদের ওপর যে চরম নির্যাতন চালিয়েছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে, বিরোধী দলের ওপরে, আওয়ামী লীগের ওপরে- তার বিরুদ্ধে এই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে কীভাবে কষ্ট করেছেন সেটা আপনারা সবাই অবগত আছেন।

আপনি ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বলেছেন বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু খ্রিস্টান নিশ্চুপ/ মিসিং/ নিখোঁজ হয়ে গেছে। আপনি সংখ্যা একটা উল্লেখ করেছেন। ৩৭ মিলিয়ন। এটা কি আসলে সত্যি? এমন প্রশ্নে প্রিয়া বলেন, আসলে বিষয়গুলো আপনারা নিজেরাও জানেন। বাংলাদেশের যে পরিসংখ্যান বই রয়েছে, ২০০১ সালের পরিসংখ্যান বইয়ে যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু যে চ্যাপ্টার রয়েছে সেখানে বিষয়গুলো লেখা রয়েছে। প্রতিবছর সরকার যে রিপোর্ট বের করে, সেই রিপোর্ট অনুসারে দেশভাগের সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল ২৯.৭ ভাগ। এখনকার সংখ্যালঘুর সংখ্যা হচ্ছে ৯.৭ ভাগ। এখন দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ মিলিয়নের মতো। সে ক্ষেত্রে যদি জনসংখ্যা একইভাবে বৃদ্ধি পেতো তাহলে অবশ্যই যে জনসংখ্যা আছে এবং যে জনসংখ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *