Tuesday, January 25, 2022
Home > রাজনীতি > কাউন্সিলে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়নের চিন্তা আ’লীগের

কাউন্সিলে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়নের চিন্তা আ’লীগের

এপিপি বাংলা : দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৬ নভেম্বর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। একে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এবার কাউন্সিলে ত্যাগী, মেধাবী, স্বচ্ছ ইমেজধারী এবং ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের চিন্তা আছে আওয়ামী লীগের। দলের প্রধান শেখ হাসিনার মনোভাবও তাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদেরও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১১ জুলাই থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাওছার ও পঙ্কজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর থেকেই তৃণমূলের জেলা, উপজেলা, মহানগরের প্রায় প্রতিটি ইউনিটের কমিটি সক্রিয় রয়েছে। তবে দীর্ঘ দিন কেন্দ্রীয় সম্মেলন না হওয়ায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। অনেকেই দীর্ঘ দিন একই পদে থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছেন। এ জন্য সব সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রয়োজনে ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচনের পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। এরপর সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচনের দাবি উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্র ও তৃণমৃলে।
জানা গেছে, বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো: আবু কাউছার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের পুনরায় কমিটিতে থাকা-না-থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। তবে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হোক বা সমঝোতার ভিত্তিতে হোক; দুঃসময়ের ত্যাগী, মেধাবী, স্বচ্ছ ইমেজধারী ও ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হবেÑ দলে এমন আলোচনা চলছে।
এসব ক্যাটাগরিতে উত্তীর্ণরা ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন শীর্ষ মহলে। এরমধ্যে সভাপতি পদের দৌড়ে রয়েছেন সিনিয়র সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও মতিউর রহমান মতিসহ বেশ কয়েকজন নেতা। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত নেতা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা ও শেখ সোহেল রানা টিপুসহ বেশ কয়েকজন।
খায়রুল হাসান জুয়েল নয়া দিগন্তকে বলেন, নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের কারণে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ এক বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছি। কারামুক্ত হয়ে প্রিয় নেত্রীর স্নেহ পেয়ে পরে রাজনীতি করার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও নেত্রীর সুদৃষ্টি বিশেষভাবে প্রত্যাশা করি।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্যতম প্রভাবশালী সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কারা নেতৃত্বে আসবে এবং কিভাবে আসবে। ভোটেও হতে পারে। তবে ভোট সব সময়ই ভালো হবেÑ এমনটা নয়। তিনি বলেন, আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করার জন্য প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বে কাজ করে আসছি। নেত্রী যা সিদ্ধান্ত নেবেন, হাসি মুখে মেনে নেব।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো: আবু কাউছার কাউন্সিল প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, সম্মেলনকে সফল করার জন্য ইতোমধ্যে ১২ উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি বর্ণাঢ্য সম্মেলন উপহার দেয়ার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন সে সিদ্ধান্ত স্বাগত জানাই। তিনি যে জায়গাতে আমাকে রাখবেন সেখানেই একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাবো।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সাংবাদিকদের বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি সুসংগঠিত দল। ত্যাগী, মেধাবী ও পরীক্ষিতরাই নেতৃত্বে আসবে। কাউন্সিলরদের মতামত প্রাধান্য পাবে। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব আনা হতে পারে। সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। তবে সব কিছু হবে নেত্রীর পরামর্শে। উনি যেভাবে পরামর্শ দেবেন, সে অনুসারেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হবে।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *