Friday, November 15, 2019
Home > স্বাস্থ্য > স্তন ক্যান্সারে বছরে ৭০০০ নারী মারা যান

স্তন ক্যান্সারে বছরে ৭০০০ নারী মারা যান

এপিপি বাংলা : বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর ৭ হাজার নারী মারা যান বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) নারী সদস্য ও পরিবারের জন্য দিনব্যাপী স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং বিষয়ে হেল্থ ক্যাম্প অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

রাসকিন বলেন, সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও স্তন ক্যান্সারে নারীদের অবস্থান শীর্ষে। প্রতিবছর বাংলাদেশে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি নারী আক্রান্ত হন, এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোগীই মারা যান।

তিনি বলেন, দেরীতে রোগ ধরা পড়া, সঠিক ও পুরো চিকিৎসা না নেওয়া বা সুযোগ না থাকা, চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ না হওয়া স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

স্তন ক্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হচ্ছে সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো। তাই সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সকল মায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডা. রাসকিন বলেন, নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া বেশি বয়সে সন্তান, ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে ও প্রথম সন্তানের মা হওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। শাকসবজি ও ফলমূল না খেয়ে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সার বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের যে ব্যাপকতা রয়েছে, জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রাথমিক অবস্থায় এটা নির্ণয়ের জন্য স্ক্রিনিং কর্মসূচি জনগণের নাগালের মধ্যে নেয়া প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ৮টি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তাবায়িত হলে নতুন ক্যান্সার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।

ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে ও কল্যাণ সম্পাদক কাওসার আজমের সঞ্চালনায় হেল্থ ক্যাম্পে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান।

এসময় কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম, সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামানসহ ডিআরইউ’র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *