Sunday, September 19, 2021
Home > রাজনীতি > প্রধানমন্ত্রীর কাছে সদ্য সাবেক কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা সৈয়দ মোঃ মহসীন এর খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সদ্য সাবেক কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা সৈয়দ মোঃ মহসীন এর খোলা চিঠি

 

বরাবর,
মাননীয় “সভানেত্রী”
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
আস্সালামু আলাইকুম- হে প্রিয় নেত্রী- আপনার নেতৃত্বগুনে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে, স্বল্প আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে, আপনার নিরলস প্রচেষ্টায় দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

হে প্রানের নেত্রী-
কিন্তু, আমাদের দলীয় অবস্থা মোটেই ভাল নয়, সাংগঠনিক ভাবে আমরা দুর্বল হয়ে পরেছি, দলের পদে আসীন কিছু উচ্ছিষ্ট,বহিরাগত দলবাজের কারনে তৃণমুলে হাহাকার অবস্থা, তৃণমূলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত ত্যাগীরা আজ কোনঠাসা, তাদের নুন আনতে পানতা ফুরায়,অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটায়।

হে তৃণমূলের কান্ডারী-
দেশের কোন জেলা উপজেলাই কমিটির সভাপতি সম্পাদক পদে সৎ, আদর্শিক ও ত্যাগী নেতা কর্মীরা থাকতে পারেনা- আগে আমরা সাংগঠনিক বলয়ে মিছিল, মিটিং করতাম, লোকবল ও সাংগঠনিক শক্তি প্রয়োগে সংগ্রহ করতাম,কিন্তু এখন আর সে পরিস্থিতি নেই, যারা অবৈধ উপার্জন করে মিছিল মিটিং এ লোক সমাগম করতে পারে তাদেরকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়- এবং এই টাইপের লোকদেরই বেশির ভাগ নেতা এমপি মন্ত্রীর পছন্দ কারন তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারে, যেমন জি কে শামীমই রাই প্রকৃত উদাহরন- কমিটি বানিজ্যের কারনে অবৈধ অর্থশালী ও বিত্তবানদের কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হয়, আর ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে চুপসে যায়।

হে দেশ দরুদী নেত্রী-
সারাদেশে দলে কত যে সৎ,ত্যাগী ও বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের প্রকৃত অনুসারি রয়েছে যারা পদ বানিজ্যের কারনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পায় না, অথচ তারাই যৌবনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ করে নিজের ভবিষ্যতের চিন্তা না করে দলের হাল ধরে দলকে টিকিয়ে রেখেছে– সব জেলা, উপজেলায় বেশির ভাগ নেতা, এমপি, মন্ত্রীই তাদের নিজস্ব বলয়ে কমিটি গঠন করে- ফলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত ত্যাগীরা কমিটিতে স্থান পায়না- তৃণমূলের অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীই এগুলির প্রতিবাদ করায় সারা দেশে মামলা হামলা ও নির্যাতনের স্বিকার হয়ে জেল খেটেছে- অামি নিজেই তার প্রমান, পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে শেষ হয়েছি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও জেলা যুবলীগে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েআসছি,,, কোনিদিন অনিয়মের কোন অভিযোগ ছিলোনা,গোয়েন্দা রিপোর্টেই সব কথার সত্যতা পাওয়া যাবে- আমাদের মতো যারা অাছে তাদের কি স্বাধ জাগেনা কেন্দ্রীয়ভাবে দলের যে কোন সংগঠনে সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ??

হে প্রিয় নেত্রী-

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যাদের গোয়েন্দা রিপোর্টে কোন ভেজাল নাই, শতভাগ পক্ষে তাদেরকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সাংগঠনিক কোন পদে রাখলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সূচনা হবে- সাংগঠনিক ভাবে দল শক্তিশালী হবে- যখনই পদের অাশা করি তখনই পদ বানিজ্যের কাছে হার মেনে বসে থাকি- কারন আমরা তোষামোদি জানিনা, অবৈধ উপায়ে রুজিও করিনা– প্রত্যেক,জেলা, উপজেলায় যারা বিগত দিনে মাঠ কাপাতো, বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোক সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতো, হাট বাজারে,রাস্তা, ঘাটে ট্রেনে বাসে বিতর্ক করে দলকে টিকিয়ে চাঙ্গা রাখতো তাদেরকে গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে অথবা আপনার নিজস্ব টিমের মাধ্যমে খুজে খুজে বের করে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করুন,তাহলে তৃণমূলে আস্থা ফিরে আসবে দলও লাভবান হবে- দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেছে, কোথাও যেন সৎ ও আদর্শের রাজনীতি নাই, কিছুদিন পুর্বে দুর্নীতির মিছিলে শরীক হওয়ার জন্য আপনি বলেছিলেন-কিন্তু দেশের কোন জেলা, উপজেলাই তার প্রতিফলন ঘটেনি, কারন বেশিরভাগই দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত- পরিশেষে, বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষনমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানে আপনার হাতকে শক্তিশালী করতে, বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের প্রকৃত সৎ ত্যাগী- নেতা কর্মীদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আপনার সর্বাঙ্গীণ সু-স্বাস্থ্য ও কুশল কামনা করে এখানেই শেষ করলাম।
জয়বাংলা-জয়বঙ্গবন্ধু

সৈয়দ মোঃ মহসীন
>সদ্য সাবেক সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।
>সহ সম্পাদক ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা আওয়ামী যুবলীগ।
>সাবেক সদস্য আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ,
>সাবেক সাধারণ সম্পাদক ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আখাউড়া পৌরসভা।
>সাবেক সদস্য আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগ।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *