Friday, August 7, 2020
Home > বিনোদন > গীটার জনক উজ্জ্বল নক্ষত্র এনামুল কবির — আবু নাসির

গীটার জনক উজ্জ্বল নক্ষত্র এনামুল কবির — আবু নাসির

গীটার জনক উজ্জ্বল নক্ষত্র এনামুল কবির
–আবু নাসির

আমি গত বছর একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম যে, যারা এই দেশে জন্ম নিয়ে অনেক বড় জ্ঞানের অধিকারী হয়ে দেশের জন্য কিছুই করেন নাই। এমন কি তাঁদের স্ত্রী সন্তান গনও আর এদেশে তাঁদের পৈত্রিক ভিটাতে ফেরেন নাই। আমি তাঁদের ঘৃনা করি। এই পোষ্ট দিয়ে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম। মূলতঃ আমি আমার ক্ষোভটা কোন চাকুরীজীবিদের বা বিদেশে বসবাস রত কোন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ফিলোসপার নিয়ে নয়।
আমার ক্ষোভ ছিলো সাংস্কৃতিক ঘারানার বিশ্ব বিখ্যাত সংগীত, নাটক, সিনেমা কেন্দ্রিক ব্যক্তি বর্গকে নিয়ে। এটা নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত আমার এক ঘনিষ্ট জন ও বিপাশা দিদি’র সাথে বেশ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিলো। আমার ক্ষোভ ছিলো বিশেষ করে বাবা ওস্তাদ আলাউদ্দীন খান সাহেব ও ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন খান সাহেব কে ঘিরে। তখন সারা বিশ্বে যে কয়েক জন শাস্ত্রীও সঙ্গীত বোদ্ধা ছিলেন তাঁদের মধ্য অন্যতম ছিলেন এই বাংলার মাটিতে জন্ম নেয়া বৃহত্তর ময়মনসিংহের এই দুই সন্তান। এর মধ্যে আবার ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন খান সাহেবের দাদা ও পিতা ছিলেন এলমে মারেফাতের সাধক। এই দুই জনের ভারতে মাইগ্রেট করা নিয়ে আমার কোন আফসোস নাই। আফসোস হলো তাঁরা বাংলাদেশে একটাও পণ্ডিত রবিশংকরের কি জন্ম দিতে পারতেন না! ওস্তাদ আলী আকবর খানের এবং ওস্তাদ সুজায়েত হোসেন খান সাহেবদ্বয়ের দেশের সঙ্গীতের প্রসারের জন্য কি কোন দায় দায়িত্ব নাই? এই দায় কি শুধু একলা ওস্তাদ আয়েত আলী খান সাহেবের সহ ঐ বংশের যারা ছিলেন এ দেশে তাঁদের দায় ছিলো?
তবে বর্তমান দেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বলতো তাঁরা যা করেছিলেন এখান থেকে ভারতে চলে গিয়ে সেটা ভালোই করেছিলেন। কারণ এদেশে থাকলে তারা নূণ্যতম সন্মানটুকু পেতেন না।
যে পাচ্ছেন না এদেশের একমাত্র হাইওয়ান গিটারের জনক জনাব এনামুল কবির সাহেব। গত বছর তিনি কানাডা সফরে গিয়ে কানাডার বহু ফাংশনে ও টিভি মিডিয়ায় নিজের জন্মভূমিকে কানাডিয়ানদের জনগনকে চিনিয়ে দিয়ে এসেছেন তিনি বাংলা মায়ের সন্তান গিটার নক্ষত্র এনামুল কবির। দেশের রেডিও টেলিভিষনের শুভ লগ্নে গুলিতে এই মহৎ গিটারিয়ানের দেশের গান বাজানো দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ হয়। আবার সংসদ টেলিভিশনে একটু বেশীই বাজানো হয়। কিন্তু এর জন্য শিল্পীকে কোন প্রকার রয়েলিটি দেয়া তো হয়ই না বাজনা যে টি তাঁর বাজানো এই নামটি পর্যন্ত সিডিতে নাই। এটা কতো বড় একটা অসন্মান জনক গর্হিত কাজ তা কি ওখানে দায়িত্ব রত বড় কর্মকর্তারা বোঝেন না? নাকি বুঝেও তারা সন্মানীত লোকটিকে সন্মান করতে জানেন না?
এই সমস্ত বড়,কর্মকর্তা গনকে বলছি ছোট সময় দুই জন লোকের গীটার বাদন ও তিন চার জন লোকের পল্লীগান এবং রেডিও প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ার সময় খেয়াল শোনার জন্য নির্ধারিত সময়ে অপেক্ষা করতাম। আগের দিন জেনে নিতাম কোন সময় কোন অনুষ্ঠান হবে। তন্মধ্যে গীটার শিল্পী এনামুল কবির স্যার, গীটার শিল্পী শিল্পী পান্না আহমেদ স্যার, পল্লীগীতি সম্রাট আব্বাস উদ্দীন, আব্দুল আলীম, নীনা হামিদ, ফেরদৌসী রহমান, মাহবুবা রহমান, লায়লা আরজুমান্দ বানু, সোহরাব হোসেন, আব্দুল লতিফ, আব্দুল হালিম চৌধুরী, বেদার উদ্দীন আহমেদ, ওস্তাদ হাসান আলী খান, শমসের আলী সহ প্রমুখ।
এখন সেই যুগের মাত্র দুইটি নক্ষত্র বেঁচে আছেন এই বাংলার বুকে। তাঁদের মধ্যে একজন গীটার নক্ষত্র এনামুল কবির স্যার ও শিল্পী ওস্তাদ জুলহাস উদ্দীন সাহেব।
জুলহাস উদ্দীন হলেন এমন একজন নক্ষত্র যিনি অন্ধ হয়েও সঙ্গীত জগতের নক্ষত্র।
আর আমাদের এনামুল কবির স্যার স্ত্রী ও একমাত্র জোয়ান ছেলে হারা। যার আঁচ আমার গায়ে লেগেছে বলে আমি বুঝি কতোটা কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।
যে দেশে গুনীজনেরা সন্মান পান না সেদেশ কোন দিন উন্নতি করতে পারে না।
সন্মানীত প্রধান মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আমি একজন সামান্য মুক্তিযোদ্ধা হয়ে সবিনয় নিবেদন করছি একজন দেশ প্রেমিক জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর চির অনুগত সৈনিক গীটার বাদকের অগ্রনায়ক গীটার শিল্পের উজ্জল শিল্পীকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সন্মানে ভূষিত করা হলে আমরা সহ দেশবাসী আপনাকে আরো ভালোবাসবে ইনশা আল্লাহ্।
দেশের সঙ্গীত শিল্পী সহ সঙ্গীত প্রেমিদের নিকট আমার এই কামনাকে সাপোর্ট করতে অনুরোধ করছি।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *