Wednesday, November 25, 2020
Home > আঞ্চলিক সংবাদ > আদালতে সাক্ষ্য দিলেন রিফাতের মা ও বোন

আদালতে সাক্ষ্য দিলেন রিফাতের মা ও বোন

এপিপি বাংলা : বরগুনায় আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে তাদের জেরাও শেষ করেছেন আসামিপক্ষের সাতজন আইনজীবী।
এ সময় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৯ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার সকালে আবার তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন আদালত।
বুধ এবং বৃহস্পতিবার বাদীসহ চারজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। এর আগে ১ জানুয়ারি মিন্নিসহ ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বরগুনা কারাগার থেকে আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ূম রাব্বি আকন , রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল হাসান সায়মুন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে মুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার চাচার সঙ্গে আদালতে হাজির হয়।
আদালতে তিনজনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বেলা ৩টায় আবার ওই আসামিদের বরগুনা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বেলা ১১টায় সাক্ষীর বক্সে সাক্ষ্য দিতে ওঠেন মামলার বাদীর স্ত্রী নিহত রিফাত শরীফের মা ডেইজি বেগম। এরপর সাক্ষ্য দেন নিহত রিফাত শরীফের চাচাত বোন নুসরাত জাহান অনন্যা ও রিফাত শরীফের আপন ছোট বোন ইসরাত জাহান মৌ।
প্রথমে পিপি ভুবনচন্দ্র হাওলাদার তাদের জবানবন্দি দেয়ার সহায়তা করেন। নিহত রিফাত শরীফের মা ডেইজি বেগম দীর্ঘ সময় নিয়ে তার পুত্র হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আদালতে কয়েকবার কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। আসামিপক্ষের ৭ জন আইনজীবী তাকে জেরা করেন।
ডেইজি বেগম আদালতে বলেছেন, তার ছেলে রিফাত শরীফকে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজি, রিশান ফারাজিসহ আদালতে উপস্থিতসহ আরও অনেক আসামিরা বরগুনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেটের সামনে কুপিয়ে জখম করে। ওইদিন বিকালে তার ছেলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
ডেইজি বেগম তার ছেলে রিফাত শরীফ হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে চিহ্নিত করেন।
সাক্ষী নুসরাত জাহান অনন্যা ও ইসরাত জাহান মৌ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে রিফাত শরীফের হত্যাকারী হিসেবে ওই আসামিদের কথা বলেন।
সাক্ষ্য দেয়ার পরে নিহত রিফাত শরীফের বোন মৌ যুগান্তরকে বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। মিন্নির কারণে আমার ভাই খুন হয়েছে। আমরা জানতাম না মিন্নি নয়ন বন্ডকে বিয়ে করে গোপন রেখে আবার আমার ভাইকে বিয়ে করেছে।
মৌ আরও বলেন, মিন্নি আমার ভাইর সঙ্গে বিয়ে বসে গোপনে আগের স্বামী নয়ন বন্ডের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। আমার ভাই জানতে পেরে মিন্নিকে নিষেধ করেন। এতে একাধিকবার মিন্নি আমার ভাইর কাছে তালাক চেয়েছে। এই বিষয় নিয়ে মিন্নি ও আমার ভাইর মধ্যে ঝগড়াজাটি হতো। মিন্নি আমার ভাইকে হত্যা করে পথের কাটা দূর করার জন্য নয়ন বন্ড, রিফাত ফারজিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ২৬ জুন বরগুনা কলেজ গেটের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে।
মৌ বলেন, এই কথাগুলো আমি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে একদল যুবক রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে। পরে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় বরিশাল শেরেইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় রিফাত শরীফ।
মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কোপানো দৃশ্য। ২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ নয়ন বন্ডসহ ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রিফাত হত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড। ১ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই খণ্ডে ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মিন্নিসহ ১০ জন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ২৪ জন।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *