Saturday, September 26, 2020
Home > জাতীয় সংবাদ > ঢাকায় হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা,দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ

ঢাকায় হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা,দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ

এপিপি বাংলা : ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।
দিনের প্রথম কর্মসূচিতে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একটি সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন ” সীমান্তে একটি মৃত্যুও অনেক। এটা বন্ধে ভারতের যে অঙ্গিকার তার কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। সীমান্তে অপরাধীদের তৎপরতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা সফররত বিদেশ সচিব ২০১৯ সালের সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, বর্ডারে মৃত্যুর হার ফিফটি-ফিফটি। দু’পক্ষেরই প্রায় সমান সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে। এটি বন্ধে জয়েন্ট প্রেট্রোলিংয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
শ্রিংলা ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিল ও আসামের এনআরসি নিয়েও কথা বলেন। বিষয় দু’টি একান্তই ভাতের অভ্যন্তরীন ইস্যু উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না।
এটি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করেন তিনি।
বিদেশ সচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়েও কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যেকোন উদ্যোগে ভারতের সমর্থন থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শ্রিংলা সেমিনারে দেয়া তার বক্তৃতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। জানান, আগামী ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা আসছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ওই সফরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আগামী রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সভাকক্ষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দফতরে বৈঠক করেন শ্রিংলা।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রিংলা বলেন, মোদির আগমনে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছেন। আরও যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে আলোচনা হবে এবং সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন হলে সেটা আমরা আমাদের উন্নয়ন বলেই মনে করি। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্ববোধ করি।
দিল্লির সহিংসতার ঘটনার পর বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদিকে বিরোধীপক্ষের প্রতিরোধের ঘোষণার বিষয়টি ভারত কীভাবে দেখছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র। এটা বাংলাদেশের মানুষ উদার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন বলে মনে করি। দিল্লির ঘটনা কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সংঘর্ষ নয়। এর তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলী দাশ ছাড়াও আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *