Tuesday, August 9, 2022
Home > স্বাস্থ্য > করোনা পরীক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সংকট

করোনা পরীক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সংকট

নিউজ ডেস্কঃ কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা সঠিক ফলাফলের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ঠিকমতো নমুনা সংগ্রহ করা না হলে তার ফলাফল ঠিক আসবে না। আর ফলাফল সঠিক না হলে একজন কোভিড-১৯ পজিটিভের যদি নেগেটিভ ফল আসে, সেটা হবে ভয়াবহ বিষয়। কারণ, তিনি তখন নেগেটিভ ভেবে, যখন অন্য কারও সংস্পর্শে আসবেন, তখন তার থেকে অন্যরা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

হবিগঞ্জ জেলায় মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ চারটি। এরমধ্যে একজন ঢাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য আছেন, জেলা সদর হাসপাতালের একজন কোভিড পজিটিভ, আরেকজন হোম কোয়ারেন্টিনে। বাকি একজন গৌতম এন্ডো। তিনি হবিগঞ্জ পৌরসভা, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা থেকে করোনা নমুনা সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছেন একাই। শুধু হবিগঞ্জ না, দেশের বিভিন্ন জেলারও একই চিত্র। লম্বা সময় ধরে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না হওয়ায় করোনা সংকটে সঠিকভাবে নমুনা পরীক্ষা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিশ্চিতে আরও অনেক বেশি টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন, সঙ্গে চাই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ।

নমুনা সংগ্রহে জটিলতা ও নিজের কাজের ঝুঁকি বিষয়ে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট গৌতম এন্ডো  বলেন, ‘সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসক এবং আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মী ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরা আমার অফিসের, আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমার কালেকশন করা অনেক রিপোর্ট পজিটিভ। নিয়ম অনুযায়ী এখন আমার হোম কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার কথা, কিন্তু সেটা করা যাচ্ছে না। কারণ, আমি যদি কোয়ারেন্টিনে চলে যাই, তাহলে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাবে’।

‘বৃদ্ধ মা আর ছোট দুই শিশু সন্তানের সঙ্গে একই বাসায় থাকা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ আমার জন্য, সেটা অন্তত সবাই বোঝেন এখন, কিন্তু কিছু করার নেই’, যোগ করেন গৌতম।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের স্বল্পতা থাকায় ইপিআই কার্যক্রমে যুক্ত হেলথ টেকনোলজিস্টদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তবে তাদের কাজ মানসম্মত না জানিয়ে গৌতম বলেন, হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় ইপিআই কার্যক্রমের হেলথ টেকনোলজিস্টদের দিয়ে (শিশুদের টিকা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত) নমুনা সংগ্রহ করানো হচ্ছে। অথচ তারা কাজ করছেন মাত্র একদিনের প্রশিক্ষণে, তাই সঠিক স্যাম্পল তাদের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিসিআর টেস্টে (যে পরীক্ষায় কোভিড-১৯ নির্ণয় হয়) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম ধাপ হচ্ছে নমুনা সংগ্রহ। অথচ গত ১০ থেকে ১২ বছরের মতো টেকনোলজিস্ট নিয়োগ হচ্ছে না, তাই সংকট রয়েছে তাদের। যত জায়গায় যত ঝামেলা, তার সবই হচ্ছে নমুনা সংগ্রহ নিয়ে। নমুনা ঠিকমতো আসছে না বলেই ভাইরাস থাকছে না, যার কারণে ফলস পজিটিভ বা ফলস নেগেটিভ আসছে। এটি একটি বিশেষায়িত বিষয়। তাই প্রথমত অনেক বেশি টেকনোলজিস্ট এবং দ্বিতীয়ত প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট দরকার।

প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেকনোলজিস্ট নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি। এ কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য আরও অনেক বেশি টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশে প্রায় ১৫ হাজারের মতো বেকার ল্যাব টেকনোলজিস্ট রয়েছেন, এই জরুরি সময়ে তাদের কাজে লাগানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট থাকতে হবে। সে হিসাবে দেশে এখন প্রয়োজন এক লাখের বেশি টেকনোলজিস্ট। কিন্তু বাংলাদেশ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে টেকনোলজিস্টের পদ রয়েছে মাত্র সাত হাজার ৯২০টি, কর্মরত আছেন পাঁচ হাজার ১৬৫ জন। এরমধ্যে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) পদ দুই হাজার ১৮২টি। আর কাজ করছেন এক হাজার ৪১৭ জন।

কোভিড-১৯-এর হটস্পস্ট নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে টেকনোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র আট জন। এরমধ্যে তিন জন করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। পাঁচ জন দিয়ে চলছে নমুনা সংগ্রহের কাজ।

জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের শূন্যপদ পূরণ করতে হবে জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক বলেন, একইসঙ্গে নতুন আরও অন্তত পাঁচ হাজার টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *