Thursday, May 28, 2020
Home > আঞ্চলিক সংবাদ > মেয়র জাহাঙ্গীরের আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের ভরসার জায়গা দখল

মেয়র জাহাঙ্গীরের আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের ভরসার জায়গা দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গাজীপুরে বলতে গেলে নিজস্ব কোন ব্যবস্থাপনাই ছিল না। অথচ সেখান থেকেই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ পুরো গাজীপুরে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ ঠেকিয়ে দেন মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। নিজস্ব অর্থায়ন ও চিন্তা থেকে সময়োপযোগী গুচ্ছ পদক্ষেপ নেন তিনি। এ কারণে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের কাছেও হয়ে উঠেছেন নয়নের মণি।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর নড়েচড়ে ওঠে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরগুলো। কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশনে এ সংক্রান্ত তৎপরতা ছিল তারও আগে থেকে। বিশেষ করে চীনের পর ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে আগাম তৎপরতা শুরু করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী আমদানির উদ্যোগ নেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ব্যক্তিগত সব চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়েছেন। পারিবারিক বিষয়গুলোও গৌণ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন একজন জনপ্রতিনিধি কখনো ব্যক্তি বা পারিবারের হতে পারেন না। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের। জনগণের ভোটে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নাগরিকদের সেবায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে। নবগঠিত একটি সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান সম্পদের চেয়ে জনপ্রত্যাশা বহুগুন বেশি। আর

করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো কোন ধরণের সক্ষমতাই ছিলো না গাজীপুরে। কিন্তু অসহায়ের মতো বসে থাকলে তো আর চলবে না। এই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি নাগরিকের পাশে দাঁড়ানো যে তাঁর দায়িত্ব। সে চিন্তা থেকেই করোনাভাইরাস ধরা পড়ার প্রথম দিকে নিজের পয়সা খরচ করে ৭০ হাজার এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে আসলেন বিদেশ থেকে। এরপর একে একে আনলেন থার্মোমিটার, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), গ্লোভসসহ অন্যান্য উপকরণ। দেশে যখন এসব পণ্যের তীব্র সংকট, তখন বিনামূল্যে বড় কড় হাসপাতালে বিনামূল্যে বিলিয়েছেন নিজের পয়সায় কেনা নানা সুরক্ষা সামগ্রী। করোনা চিকিৎসার বড় বড় হাসপাতালে দিয়েছেন মাস্ক ও পিপিই। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে এসব পণ্য সামগ্রী।

করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়েন শ্রমিক অধ্যুষিক গাজীপুরের বহু মানুষ। এসব মানুষদের খুঁজে বের করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন প্রতিটি ঘরে। ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে সমাজকর্মী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং পরিবহন শ্রমিক কেউ বাদ যায়নি মেয়রের সহযোগিতা থেকে। এরপর ঈদ উপলক্ষে ছাত্রলীগের নেতাদের মাধ্যমে গঠন করলেন ‘হ্যালো ছাত্রলীগ’ নামে একটি সংগঠন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবাসিক হোটেল এবং রিসোর্টে থেকে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এতকিছুর পরও ভুলে যাননি নিজের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় সমন্বয়ের বিষয়টি। জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে তাদের পরামর্শ নিয়েছেন। নিজের সুবিধা-অসুবিধা শেয়ার করেছেন।

করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর এভাবেই নিজের কর্মগুণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য এসব কাজ করলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমান্ড এখন মেয়রকে নিয়ে গর্ববোধ করে। টকশো এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে মেয়রের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ভালকাজের উদাহরণ হিসেবে নিচ্ছেন গাজীপুর মেয়রের নাম।

এদিকে, করোনা ইস্যুতে মেয়রের তৎপরতায় বেজায় খুশি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাধারণ মানুষও। ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মেয়রকে ফোন করে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন বলেও জানা গেছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘মেয়র যা করছেন, তা নিজের একান্তই নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য করছেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্ব বোধ থেকেও করেছেন। কিন্তু এই বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নেতারা অনেকেই নিয়মিত মেয়রকে ফোন করেন, খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া এই সংকটের সময় বিদেশ থেকে কিভাবে বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী আনা যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ নেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মেয়রের প্রতি খুব খুশি।’

সম্প্রতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রকাশ্যে গাজীপুর সিটি মেয়রের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বিদেশ থেকে বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণ এনে সরকারকে দিয়েছেন। তিনি নিজের পয়সা খরচ করে এসব পণ্য বিদেশ থেকে এনেছেন। আমি গাজীপুরের মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন, তারা আমার কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করবেন এটাই স্বাভাবিক। আমি নিজেও নির্বাচনের আগে ইশতেহারে অনেক অঙ্গীকার করেছি। আমি এই সিটি করপোরেশনের প্রতিজন নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধ। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই নগরবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চেয়েছি। তবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ হয়েছিল। এটা আমার এবং এই এলাকার নাগরিকদের জন্য খুবই গর্বের ও আনন্দের।’

জ্যেষ্ঠ নেতাদের ফোন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ এটা সত্য, অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আমাকে পরামর্শ প্রদান করেছেন। আমার এবং গাজীপুরের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমরা সবাই তো আসলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমত কাজ করছি। নেতাদের অনুপ্রেরণা পেলে কাজের গতি আরো বেড়ে যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *