Wednesday, October 27, 2021
Home > আন্তর্জাতিক > সারা বিশ্বে রোজগারে স্ত্রীদের চেয়ে এগিয়ে স্বামীরা

সারা বিশ্বে রোজগারে স্ত্রীদের চেয়ে এগিয়ে স্বামীরা

এপিপি বাংলা : ‘আপনি কি আপনার স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন?’ এমন প্রশ্নে অধিকাংশ নারীই না-সূচক জবাব দিয়েছেন।

সারা বিশ্বে দম্পতিদের আয়ের ওপর ব্যাঙ্গালুরুর ইনডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের সেন্টার ফর পাবলিক পলিসির সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে বিশ্বজুড়ে নারীরা আয়বৈষম্যের শিকার। তবে গত চার দশকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিবারের ভেতরে এই বৈষম্য ২০ শতাংশ কমে এসেছে।

নতুন এই সমীক্ষা বলছে, যেখানে পরিবারের দুজনই কর্মজীবী, পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে স্ত্রীরা অন্তত স্বামীদের সমান আয় করেন। খবর বিবিসির।

১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার দশক সময়ে মধ্যে ৪৫টি দেশ থেকে পাওয়া দম্পতিদের আয়ের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে এ সমীক্ষায়।

পরিবারে উপার্জনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্যের ওপর প্রথমবারের মত পরিচালিত বৈশ্বিক জরিপ এটি। জরিপটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক হেমা স্বামীনাথন এবং অধ্যাপক দীপক মালগান এ গবেষণা পরিচালনা করেন।

গবেষণায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী স্বামী-স্ত্রীর আয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে।  দাতব্য সংস্থা লুক্সেমবার্গ ইনকাম স্টাডি (এলআইএস) এসব তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের শ্রমবাজারে বৈষম্যের বিষয়টি সবারই জানা। সাধারণভাবে কর্মক্ষেত্রে খুব কম নারীকেই দেখা যায় এবং তারা খুব কমই পূর্ণকালীন কোনো কাজে অংশ নেন। এই প্রেক্ষাপটে পুরো বিশ্বে নারী-পুরুষ আয় বৈষম্যের চিত্রটি বুঝতে এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক স্বামীনাথন ও মালগান।

অধ্যাপক স্বামীনাথন বলেন, ‘প্রচলিতভাবে দারিদ্র্যের হার নির্ধারণে পরিবারকে একটি একক হিসেবে দেখা হয়। সাধারণভাবে একটি পরিবারের মোট আয়কে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে হিসাব ধরা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারই বড় একটি বৈষম্যের কেন্দ্র এবং আমরা তার মোড়ক খুলতে চেয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে নর্ডিক দেশগুলোকে আশার আলো হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু সেখানে অবস্থাটা কেমন? শ্রমবণ্টন এবং গৃহস্থালীর সম্পদ বণ্টনে সেটা কি সমান?’

সার্বিক বৈষম্য এবং পরিবারের ভেতরের বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে ক্রম অনুযায়ী দেশগুলোর র‌্যাঙ্কিং করেছেন এই দুজন গবেষক। তাদের সমীক্ষায় বিভিন্ন দেশে ধনী এবং দরিদ্র পরিবারগুলোতে দীর্ঘ কাল ধরে বৈষম্য বিদ্যমান থাকতে দেখা গেছে।

অধ্যাপক মালগান বলেন, ‘সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালেচনায় দেখা যায়, এমন একটি দেশও নেই যেখানে চাকরিজীবী দম্পতিদের মধ্যে স্ত্রীরা স্বামীদের সমান উপার্জন করেন, সেটা সবচেয়ে ধনী কিংবা উন্নত দেশেও নেই। এমনকি বিশ্বে সবচেয়ে কম লিঙ্গ বৈষম্যের নর্ডিক দেশগুলোতেও  আমরা দেখেছি উপার্জনের ক্ষেত্রে নারীদের অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশের কম।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, মহিলাদের কম উপার্জনের কিছু কারণ সর্বজনীন। সাংস্কৃতিকভাবে পুরুষদেরকে রুটিরুজির কর্তা হিসেবে দেখা হয়। আর মহিলাদের গৃহকর্তা বিবেচনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনেক নারী সন্তান জন্মের পর তাকে বড় করতে চাকরি বা আয়-রোজগারের পথ থেকে সরে দাঁড়ান।

আয়বৈষম্যের ক্ষেত্রে এই বাস্তবাতাও অনেকাংশে দায়ী। সেদিক থেকে স্ত্রীর ‘অবৈতনিক’ কাজের বোঝা স্বামীদেরও ভাগ করে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *