Monday, February 26, 2024
Home > বিশেষ সংবাদ > কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা, ২ জুলাই : সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরও রেহাই দেয়নি। তাদের চড় থাপ্পর দেয়ার পাশাপাশি রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়েছে।
এদিকে শহীদ মিনার এলাকায় কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও ফারুকের নেতৃত্বে কোটার দাবিতে আন্দোলনরত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী সোমবার বেলা ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের ১০/১৫ জন নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহসিন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী।
হামলার পর কোটা আন্দোলনের নেতা ফারুক নিচে পড়ে যান। তখন তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন তার মোটরসাইকেলে করে ফারুককে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এর মধ্যে ছাত্রলীগের অন্তত আটজন নেতাকর্মী এক ছাত্রীকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় ওই ছাত্রীকে কাঁদতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের হামলা সত্ত্বেও কোটা আন্দোলনকারীরা বেলা ১১টা ৫ মিনিটে আবারো শহীদ মিনারে জড়ো হন। তখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, মুহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানীর নেতৃত্বে তাদের ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটে।
কোটা বাতিলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ডাকে সারা দেশে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে।
এছাড়া রবিবার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন আজ জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরুল হক নূরসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং অন্য দুই যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান ও মাহফুজ খানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও কলাভবন এলাকায় অবস্থান নেন। কিছু শিক্ষার্থী শাহবাগের আশেপাশে থাকলেও পরে তারা ক্যাম্পাসে চলে আসেন।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কড়া পাহারার মধ্যেই বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় চলে আসেন। সেখানে তারা মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে কয়েক দফায় মারধরের শিকার হন।
ঘটনাস্থলে থাকা পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক লুৎফর নাহার নীলা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকালীদের ওপর ছাত্রলীগ দফায় দফায় হামলা করলেও প্রশাসন-পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
হাসান আল মামুন বলেন, আমরা শহীদ মিনারে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ দফায় দফায় আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় কয়েকজন ছাত্রীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
হামলায় আহত ফারুককে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তুলে নিয়ে গেছে জানিয়ে মামুন বলেন, তাকে কোথায় নেয়া হয়েছে আমরা জানি না। অবিলম্বে সুচিকিৎসা না দিলে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *