Thursday, July 29, 2021
Home > আঞ্চলিক সংবাদ > তিন জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন

তিন জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন

এপিপি বাংলা :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের জেরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়েতুল মোজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নেতা রুহুল আমীন ওরফে সালমান হত্যা মামলায় জেএমবি’র ৩ সক্রিয় সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া জেএমবি’র অপর ৪ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ শওকত আলী ৭ আসামীর মধ্যে ৬ জনের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিতরা হলেন- জেলার নাচোল উপজেলার চানপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মো. সানোয়ার (৩৭-পলাতক), জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম রাজারামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) ও একই উপজেলার বালুগ্রাম দক্ষিণটোলা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর ওরফে শুকুর (৩৯)।

যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন- গোমস্তাপুর উপজেলার বোগলা গোপলনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সামসুল হক(৩৩), একই উপজেলার চকপুস্তম গ্রামের নজরুল ইসলাম ওরফে টুনু’র ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল(৩৯), নিমতলা ঘন্টুটোলা গ্রামের মাহাতাবের ছেলে মো.শামীম (৩৫) ও নওগাঁর মান্দা উপজেলার শিবনগর ভড় গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে আব্দুল মোতাকাব্বির ওরফে বুলবুল (৩৫)।

নিহত রুহুল আমীন ওরফে সালমান (২৮) পঞ্চগড় জেলার আসগর আলীর ছেলে।

দণ্ডিত ৭ জনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. সানোয়ার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আঞ্জুমান আরা জানান, নেতৃত্ব নিয়ে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সংগঠন করতে অস্বীকার করায় ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে নাচোলের ফতেপুর ইউনিয়নের খলসি বোরিয়া এলাকার একটি আমবাগানে গলাকেটে হত্যা করা হয় জেএমবি নেতা রুহুল আমীন ওরফে সালমানকে।

হত্যাকারীরা নিহতকে যাতে সনাক্ত করা না যায় এ জন্য তার কাটা মস্তক গোমস্তাপুরের ধাইনগর এলাকায় মহানন্দা নদী ঘাটে নিয়ে পুঁতে রাখে।

পরদিন ২৭ এপ্রিল সকালে আমবাগান থেকে সালমানের মস্তকবিহিীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন নাচোল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন নাচোল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক(এসআই) আনিসুর রহমান।

মামলার তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তা ও নাচোল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক(এসআই) গৌতম চন্দ্র মালী ২০১৫ সালের ২৯ আগষ্ট আদালতে ৭ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেন।

২৩ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানী শেষে আদালত আজ সোমবার দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. মাইনুল ইসলাম।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *