Friday, May 14, 2021
Home > খেলাধূলা > এসএ গেমসের বর্ণিল উদ্বোধন

এসএ গেমসের বর্ণিল উদ্বোধন

আসাদ জামান : ‘শান্তি, অগ্রগতি ও উন্নতি’- স্লোগান নিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে রোববার বর্ণিল উদ্বোধন হলো ১৩তম সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের। জমকালো আয়োজন, লেজার শো, আতশবাজির রোশনাই- সবকিছুর পরও কেমন যেন অপূর্ণ থেকে গেল কাঠমান্ডু এসএ গেমসের শুরুটা। সব গেমসেই দেশের পতাকা বহন করেন সংশ্লিষ্ট দেশের একজন ক্রীড়াবিদ। কিন্তু ব্যত্যয় ঘটল হিমালয়ের পাদদেশে। আয়োজক দেশ ছাড়া আর কোনো দেশের কেউই স্ট্যান্ডসহ পতাকা বহন করতে পারেননি। সবার হাতেই ছিল স্বদেশি ছোট্ট আয়তনের পতাকা। একই দশা বাংলাদেশেরও, যা নেড়ে সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দলের সেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনুর বলেন, ‘আগে আমরা কিছুই জানতাম না। তাই পতাকা বহন করার জন্য গৌহাটিতে দুটি স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলাকে এনেছিলাম কাঠমান্ডুতে। কিন্তু আমাদের চাওয়ার কোনো প্রতিফলনই ঘটেনি কোটি রুপি খরুচের এমন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।’ ১৯৮৪ ও ১৯৯৯ সালের পর তৃতীয়বারের মতো ‘দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক’ খ্যাত এসএ গেমস আয়োজন করছে নেপাল। এবারের আয়োজনে আগের দুই আসরকেও ছাপিয়ে যেতে চাইছে কাঠমান্ডু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরতে পরতে
ছড়িয়ে ছিল মুগ্ধতা। ঘড়ির কাঁটা ঠিক ৫টা ছুঁই ছুঁই। দশরথ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী বান্দারী। মুহূর্তেই আতশবাজির বর্ণিল ছটায় আলোকিত হয়ে উঠে রঙ্গশালা স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে বসা দর্শকদের মোবাইল ফোনের আলোও জ্বলে ওঠে। আলো ঝলমলে গোটা স্টেডিয়ামকে তখন মায়াবী লাগছিল। নেপাল অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট জীবন রাম শ্রেষ্ঠা উদ্বোধনী ভাষণ দেন। গেমসের নানা দিক তুলে ধরেন ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের সদস্য সচিব রমেশ কুমার সিলওয়াল।
বেজে উঠে নেপালের জাতীয় সঙ্গীত। এরপর শুরু হয় সাত দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মার্চপাস্ট। সবার সামনে মাসকট ও লোগো হাতে স্থানীয় একদল নারী। তাদের পেছনে সাত দেশের পতাকা ও নেপাল অলিম্পিক কমিটির লোগো হাতে ছিল পতাকাবাহী এক দল। মার্চপাস্টে প্রথমেই আসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট। দলকে নেতৃত্ব দেন তিন বছর আগে ভারতের শিলং ও গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে স্বর্নজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা। তার পেছনে ছিলেন এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলের সেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনুর ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা। মার্চপাস্টে শুটিং, ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতারসহ কাঠমান্ডুতে যেসব ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, এর অধিকাংশ ক্রীড়াবিদই উপস্থিত ছিলেন।
মার্চপাস্টের পর ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে শপথবাক্য পাঠ করেন নেপালের তারকা ক্রিকেটার পরেশ খড়কা এবং কোচদের পক্ষ থেকে রেফারি দীপক থাপা। চার অলিম্পিয়ানের নিয়ে আসা মশাল দশরথ স্টেডিয়ামের বেদিতে জ্বালিয়ে এসএ গেমসের আলো জ্বালেন চারবারের সোনাজয়ী সাবেক তায়কোয়ান্ডোকা দীপক বিস্টা। শেষদিকে লেজার শোসহ সাড়ে তিন ঘণ্টার জমকালো অনুষ্ঠান ছিল বাহবা পাওয়ার মতোই। আনুষ্ঠানিক যাত্রায় মিলল সম্প্রীতির বন্ধন। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও স্বাগতিক নেপালের প্রায় তিন হাজার অ্যাথলেটের সঙ্গে দেশগুলোর ডেলিগেটদের মিলনমেলায় মুখরিত ছিল কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের রবিবাসরীয় সন্ধ্যা। ১২ মিনিট ধরে নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্সেস ও নেপাল পুলিশের এক হাজার চৌকস সেনা সাত দেশের নামের সঙ্গে মাঠেই সংশ্লিষ্ট দেশের মানচিত্র ফুটিয়ে তোলেন। যাকে নেপালি ভাষায় কেলিসথেনিকস বলা হয়। আদিবাসীদের অংশগ্রহণে নেপালের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য থারু ডান্স, লামা ডান্স, নাগার ডান্স ও লাখে ডান্স ছিল দেখার মতো। হিমালয়দুহিতার সেরা গায়ক দীপক বাজরাচারিয়া একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সবশেষে ফের আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয় দশরথ রঙ্গশালা।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *