Sunday, September 19, 2021
Home > আন্তর্জাতিক > ভারতের মন্ত্রিসভায় নাগরিকত্ব বিল অনুমোদন

ভারতের মন্ত্রিসভায় নাগরিকত্ব বিল অনুমোদন

এপিপি বাংলা : ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে নাগরিকত্ব বিল। ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে বুধবার মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য বিলটি উঠানো হলে তা অল্প সময়েই অনুমোদিত হয়। আগামী সপ্তাহে বিলটি পাসের জন্য ভারতের সংসদে উঠানো হবে।
এদিন বিলটি অনুমোদনের পরপরই সম্প্রতি নাগরিকপঞ্জি তৈরি করা আসাম রাজ্যে বিক্ষোভ করে জনতা। ওই রাজ্যে বিজেপির মিত্র এজিপির সভাপতি বলেছেন, বিদেশিদের বাংলাদেশে পাঠানোর চিন্তা বাদ দেয়া উচিত।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার বলছে, অনুমোদিত বিলে বলা হয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে (হিন্দু, পার্সি, শিখ, খ্রিস্টান) আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেবে সরকার।
বিলে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মুসলিমদের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ধর্মের ভিত্তিতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার এ নীতির বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআইএমসহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট’ বিলের খসড়া পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগের দিন মঙ্গলবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, এ মুহূর্তে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে নাগরিকত্ব বিলটি। এ বিল জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকত্ব বিল অনুমোদনের পরপরই আসামসহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু করে জনতা। আসাম সংখ্যালঘু সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সড়কে নেমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়ালের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। আন্দোলন আসামজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
এদিন আসামে বিজেপির মিত্র এজিপির (আসাম গণপরিষদ) সভাপতি অতুল বোড়া বলেছেন, বিদেশিদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চিন্তা বাদ দেয়া উচিত। আমাদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশ এদের গ্রহণ করবে না। এদিকে বুধবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করা এক হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতবারের লোকসভায় নাগরিকত্ব বিলটি পাস হলেও রাজ্যসভায় সরকার পক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিলটি পেশই করা হয়নি। ফলে লোকসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিলটি খারিজ হয়ে যায়।
সে সময় আসামে বিরোধীরা ছাড়াও বিজেপির জোট শরিক এনপিপির নেতৃত্বে অন্য দলগুলো বিলের বিরোধিতায় নামে। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিলটি লোকসভায় উঠানোর দিন বিজেপির পক্ষ থেকে দলটির সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *