Wednesday, October 20, 2021
Home > আন্তর্জাতিক > দিল্লির সেই পার্টিতে চিয়ার্স বলে গোমূত্র পান, সঙ্গে গোবরের পায়েস!

দিল্লির সেই পার্টিতে চিয়ার্স বলে গোমূত্র পান, সঙ্গে গোবরের পায়েস!

এপিপি বাংলা : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ঠেকাতে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ‘গোমূত্র পার্টি’র আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল অনেক আগেই।
শনিবার দিল্লিতে সেই পার্টি অনুষ্ঠিত হলো। পার্টিতে আগত অতিথিরা সবাই পান করলেন গোমূত্র। খেলেন গোমূত্রের প্রসাদ।
পার্টিতে বলা হয়, প্রতিদিন এমন সময় বেঁধে, নিয়ম করে খাঁটি দেশি গোমূত্র পান করলে শরীরে বাসা বাঁধবে না কোনো রোগ! আর করোনাভাইরাস তো কোন ছার!
তবে একুশ শতকের এই যুগেও বিজ্ঞানকে বহু দূরে রেখে শুধু গো-বিশ্বাসে মূত্র পান করা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে ভাবার বিষয়।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশি গোমাতার মূত্রের এই মাহাত্ম্য প্রচারেই শনিবার খাস দিল্লির বুকে ‘গোমূত্র পার্টি’র আয়োজন করেছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।
কল লাগানো স্টিলের পাত্রের গায়ে লেখা ‘পবিত্র গোমূত্র প্রসাদম’। অর্থাৎ, পবিত্র প্রসাদী গোমূত্র। পাশে উপুড় করে রাখা মাটির ভাঁড়।
একজন করে আসছেন আর ভাঁড় ভরে চুমুক দিচ্ছেন সেই প্রসাদী তরলে। অনেকের আশ যেন আর মেটে না! ভাঁড় খালি হতেই হাঁক পাড়ছেন, আউর লাও!
পার্টিতে গোবরের পায়েসের আয়োজনও করা হয়েছিল। বালতি হাতে ওয়েটার বলছিলেন, ‘রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ানো পঞ্চগব্য মেশানো আছে এই পায়েসে। গোবর, গোমূত্র ইত্যাদি।
মাটির ভাঁড়ে গোমূত্রে ভরে ‘চিয়ার্স’ বলে পান করছিলেন অনেকেই।
হিন্দু মহাসভার অধ্যক্ষ চক্রপাণি মহারাজ বললেন, ‘চীনে জীবহত্যার পাপ চরমে। করুণার আকাল। তা থেকেই করোনাসুরের জন্ম। সকালেপঞ্চগব্য, গোমূত্রের ভোগ দেয়া হয়েছে তাকে। প্রার্থনা করা হয়েছে শান্ত হতে।’
বিজেপির এক নেতা অবশ্য বলছেন, কুসংস্কার ও তাকে ঘিরে অপপ্রচার সব ধর্মেই আছে। গোমূত্র এবং গোবর খেলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায় বলে আমার জানা নেই। এই দাবির পক্ষে কোনো বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ আছে বলেও মনে হয় না।
এদিকে করোনাভারাসের ওষুধ হিসেবে গোমূত্র পানের দাবিকে কেন্দ্র করে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বহু পোস্ট। সম্প্রতি সেদেশের ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, করোনাভাইরাসের হানা থেকে বাঁচতে অত্যধিক মাত্রায় গোমূত্র পান করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যোগগুরু বাবা রামদেব।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *