Monday, August 2, 2021
Home > প্রবাস > লিবিয়ায় মানব পাচারের মামলায় আরও দু’জন রিমান্ডে

লিবিয়ায় মানব পাচারের মামলায় আরও দু’জন রিমান্ডে

এপিপি বাংলা : লিবিয়ায় পাচারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার কবির হোসেন ও নাছির উদ্দিন নামের দুই আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক এস এম গফফারুল আলম আসামি আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান শুনানি শেষে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলাটিতে মহসিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাদশা ফকির নামের আসামিকে গ্রপ্তার করা হয়। মহসিন হাওলাদার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাদশা ফকির প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আরও সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

রাকিবকে পাচারের ঘটনায় তার বাবা মান্নান মুন্সি গত ৫ জুন পল্টন থানায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন মনির হাওলাদার, মহসিন হাওলাদার, খোকন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর, বাদশা ফকির, কবীর, শরীফ, লিবিয়ায় অবস্থানকারী মুন্না, রহিম বেঙলি, আলামিন, রুবেল, আরিফ, শাকিল, সাইফুল, মানিক, আব্দুল্লাহ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মনির হাওলাদার লিবিয়ায় থাকতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে লিবিয়ায় লোক নিয়েছেন। মান্নান মুন্সি তার ছেলে রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাব দিলে মনির হাওলাদার রাজী হন। গত বছরের জুন বা জুলাই মাসের দিকে মনির হাওলাদার রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠায়। প্রথমে সাড়ে তিন লাখ টাকায় লিবিয়ায় নেয়ার কথা হলেও আসামিরা পরে আরো সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। টাকার জন্য তারা রাকিবকে নির্যাতন চালায়। ভিটে বাড়ি বিক্রি করে আর সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠায় পরিবার। সাত লাখ ৫ হাজার টাকা দেয়ার পরও আসামিরা রাকিবকে ছাড়ে না। তারা আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। রাকিবকে নির্যাতন করে মান্নান মুন্সির সাথে কথা বলতে দিতো আসামিরা। তখন রাকিব চিৎকার চেঁচামেচি করে বাঁচার আকুতি জানাতেন। টাকা দিতে না পারায় রাকিবকে মারধর করে আসামিরা এবং এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মে লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হন। ১৫ দিন আগে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ত্রিপলিতে নেয়া হচ্ছিল ৩৮ বাংলাদেশিকে। পথেই তাদের জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে ২৬ জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *