Wednesday, October 20, 2021
Home > জাতীয় সংবাদ > জাতীয় লেখক পরিষদ এর ১ম বর্ষপূর্তি : কিছু কথা সৈয়দ শামছুল হুদা 

জাতীয় লেখক পরিষদ এর ১ম বর্ষপূর্তি : কিছু কথা সৈয়দ শামছুল হুদা 

এপিপি বাংলা: গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পল্টনস্থ ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাতীয় লেখক পরিষদ এর ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। দীর্ঘসময় পর্যন্ত ইসলামী ধারার লেখকদের কোন সংগঠন ছিল না। একটা সময় ভাবা হতো, লেখকদের আবার সংগঠন কিসের? সংগঠন দিয়ে কি লেখক তৈরি হয়? লেখকদের কোন সংগঠন হয় না ইত্যাদি কথা অনেক শুনতে হয়েছে। ২০১২সালে কওমী ধারার তরুন আলেম লেখকদের উদ্যোগে প্রথম লেখকদের সংগঠন গড়ে উঠে। বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম গঠিত হয়। লেখকদের সাংগঠনিক ধারায় নিয়ে আসতে ফোরাম প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলাম। পরবর্তীতে সময়ের বাস্তবতায় আরো একটি সংগঠন গড়ে উঠে। তার নাম জাতীয় লেখক পরিষদ। মূলত: কওমী ধারার লেখক আলেমদের এই সংগঠনটি ইতিমধ্যেই কওমী ধারার আলেম-উলামাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে।

 

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে অধিকহারে লেখকদের মধ্যে এক ধরণের জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। সংগঠন লেখক তৈরি করে না, কিন্তু সংগঠন লেখকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বন্ধুত্ব তৈরি করে। লেখকদের মধ্যে মতের আদান-প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। লেখকদের জন্য আড্ডাবাজি খুবই দরকার। সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কে কেমন লিখছে এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা যায়। তরুন লেখকদেরকে পৃষ্টপোষকতা দেওয়া যায়। লেখকদের সুবিধা-অসুবিধা খেয়াল রাখা যায়। একজন লেখক প্রচুর পাঠ থেকেই লেখালেখির উপাদান খুঁজে নেন। তেমনি, সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যখন নানা মানসিকতার লেখকদের সাথে উঠা-বসা করা হয়, তখন সেখানের নানা ঘটনা থেকেও লেখালেখির উপাদান খুঁজে বের করা যায়।

 

গতকালকের অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুুগ্ম মহাসচিব জনাব গাজী আতাউর রহমান, খেলাফত মজলিস এর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ অন্যান্য দলের অনেক নেতারা ছিলেন, পাশাপাশি সিনিয়র লেখকদের মধ্যে, বাংলাদেশের অন্যতম চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা যুবায়ের আশরাফ, মুসা আল হাফিজ, রুহুল আমীন সাদী প্রমুখ লেখকগণও উপস্থিত ছিলেন। একটি সংগঠন হওয়ার কারণেই কিন্তু লেখক এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে এক ধরণের সমন্বয় গড়ে উঠেছে।

 

গতকালকের আলোচনায় রাজনীতিবিদগণ এটা স্বীকার করেছেন যে, রাজনীতিবিদদেরকে দেশের লেখক সমাজই প্রকৃত করণীয় নির্দেশ করবেন। দেশ কোন পথে যাচ্ছে, রাজনীতিবিদদের করণীয় কি তা আঙ্গুল দিয়ে লেখকরাই দেখিয়ে দেয়। লেখকদের মধ্যে এক ধরণের সুস্থ প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। কে ভালো লেখা উপহার দিচ্ছেন, কে ভালো বই উপহার দিচ্ছেন, কে ভালো কলাম লিখছেন, এসব বিষয় একটা প্রতিযোগিতায় চলে আসে যখন লেখকদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক থাকে। লেখক সংগঠনগুলো দেশের লেখকদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে।সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এক ধরণের স্বীকৃতিও আদায় হয়। লেখকরা নীরবেই লিখে যান, ঘরের কোণেই চলে যায় জীবন। অনেকেই তাদেরকে চিনে না। জানে না। ফলে অনেক লেখক মনস্তাত্ত্বিক পীড়ায় ভোগেন। সংগঠনগুলো এ সমস্যা দূরীকরণে যথেষ্ট সহযোগিতা করে।

 

জাতীয় লেখক পরিষদ অনেক ভারি একটি নাম। যদিও এর সাথে একেবারে নবীনরাই জড়িত, তথাপি একদিন হয়তো এরাই সমাজের প্রবীণ লেখকে পরিণত হবেন। কাজ করতে করতে অনেক অভিজ্ঞতা হবে। এর মাধ্যমে লেখকদের কিছুটা হলেও উপকার হতে পারে। গতকালের অনুষ্ঠানে সুজনশীল প্রকাশনা সংগঠন এর মুহতারাম সভাপতি মাহমুদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। লেখকরা বই প্রকাশের সমস্যায় ভোগেন। একটি লেখক সংগঠন হওয়ার কারণে প্রকাশকরাও লেখকদের গুরুত্ব দিবেন। অনেক নবীন লেখক প্রকাশকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে এই লেখক সংগঠনকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

গতকালের সভায় অনেকে অনেক দূর থেকে পর্যন্ত এসেছেন। কেউ এসেছেন চট্ট্রগ্রাম থেকে, কেউ এসেছেন রংপুর থেকে, কেউ বি.বাড়িয়া থেকে। আরো অনেক জেলা থেকে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অনেকে এসেছেন। এতে প্রমাণিত হয়, সংগঠনের প্রতি অনেকের অনেক গভীর ভালোবাসা আছে। আমরা আমাদের অনভিজ্ঞতার কারণে এসব সংগঠনকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি না। লেখক সংগঠন মানেই মেধাবীদের সংগঠন। সচেতন মানুষদের সংগঠন। কিন্তু সাংগঠনিক কার্যক্রমে আমাদের দুর্বলতার কারণে সুফল এখনো ঘরে উঠছে না। আশাকরি কোন একদিন হয়তো সুদক্ষ নেতৃত্বের হাতে এসব সংগঠন পরিচালিত হবে। সেদিন এর সুফল লেখকরাও পাবে। সাধারণ পাঠকরাও পাবে। হাজারো সীমাবদ্ধতার ভিতর দিয়েও এসব সংগঠন ধরে রাখতে হবে।

 

আমাদের অনেকেই শুধু সমস্যাগুলো দেখে। সমস্যার ভেতরও যে সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে সেটা নিয়ে আমরা ভাবি না। সমস্যার ভেতরেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উম্মোচন করতে হয়। হতাশার মাঝেই আশার আলো সঞ্চার করতে হয়। আর ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সকলেরই নানা সীমাবদ্ধতা আছে। দুর্বলতা আছে। এর ভেতর দিয়েই নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে হয়। আমি এসব সংগঠনগুলোর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা দেখতে পাই। সকলেই যদি পারস্পরিক ভুল বুঝাবুঝি, ক্ষোভ, কষ্ট দূর করে ভালোটা জাতিকে উপহার দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিই, তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায়।

 

জাতীয় লেখক পরিষদ এর সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, হিতাকাঙ্খিদের প্রতি আহবান থাকবে, আসুন, সকলে মিলে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। হাতে হাত ধরে হাঁটি। দেশের মানুষ বিশেষ করে কওমী অঙ্গনের লাখো-লাখো ছাত্র, শিক্ষক আমাদের থেকে অনেক কিছু আশা করে। আমরা তাদেরকে আশাহত না করি। তাদেরকে কোন প্রকার ভুলবার্তা না দিই। দেশ গঠনে দেশের রাজনৈতিক শক্তিকে পরামর্শ দিই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে আমরা সর্বোচ্চটুুকু উপহার দিই।

 

সংগঠনের সকল সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই। যারা সংগঠনকে ভালোবাসেন, নানাভাবে সহযোগিতা করেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

 

সহ-সভাপতি, জাতীয় লেখক পরিষদ ও সাধারণ সম্পাদক, ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *