Sunday, September 19, 2021
Home > জাতীয় সংবাদ > ৫ দাবিতে পল্টন থানা ঘেরাও কর্মসূচি হকার্স ইউনিয়নের

৫ দাবিতে পল্টন থানা ঘেরাও কর্মসূচি হকার্স ইউনিয়নের

এপিপি বাংলা : রাজধানীর নয়াপল্টন চায়না টাউন মার্কেটের মালিক বেলালকে গ্রেপ্তার ও হকার্স নেতা দেলোয়ার হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানা ঘেরাও করবে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ ও হকার আইন প্রণয়ন, হকারদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ জনপ্রতি ১০ লক্ষ টাকা প্রদান এবং চায়না টাউন মার্কেটে হকারদের দোকান বরাদ্দ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলম মামুন, শাহিনা আক্তার, রাকিব হোসেন, ফারুক হোসেন, মোস্তফা গাজী প্রমুখ।লিখিত বক্তব্যে সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, সংগঠন বিগত এক দশক ধরে হকার আইন প্রণয়নের দাবিতে ধারাবাহিক লড়াই-সংগ্রাম করছে, ২০২০ এর মার্চ মাসে করোনার মহামারীর থাবায় হকাররা লকডাউনে গৃহবন্দী হয় ওই সময় সংগঠন থেকে ১০ হাজার হকারের তালিকা প্রণয়ন করে সিটি কর্পোরেশন, ডিসি অফিস, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয় কিন্তু কোনো জায়গা থেকে হকারদের রেশন কার্ড, আর্থিক সহযোগিতা, ত্রাণ দেওয়া হয়নি। শীতের মৌসুম হকারদের বেচা-বিক্রির উত্তম সময়, হকাররা ধার-দেনা করে, মহাজনের নিকট থেকে, বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে শীতের মালামাল কেনাবেচা করছে।

তিনি আরো বলেন, গত পহেলা ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে চায়না ডেভেলপারের মালিক ও তার বাহিনী সরকারি নির্দেশনা ছাড়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হকারদের কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, দোকানপাট ভাঙচুর করে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তিনি আরো বলেন, গত ৩০ বছর ধরে নয়াপল্টন সুপার মার্কেটের সামনে (বর্তমানে চায়না টাউন মার্কেট) ফুটপাতে বসে হকাররা জীবন-জীবিকা করে আসছে। মার্কেটে দোকান পাওয়ার আশায় ৩০ বছর ধরে বেলাল সাহেবকে মাসিক ভিত্তিতে টাকা দিয়ে আসছে, যা কয়েক কোটি টাকা হয়েছে। চায়না টাউন মার্কেটের স্থাপনার কাজ শেষের দিকে। বেলাল সাহেবের নিকট হকাররা দোকান চাইলে উল্টো তাদের ৩০ বছরের আত্মকর্মসংস্থান থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে গভীর বিপাকে পড়েছে হকাররা। সরকার বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো নিদের্শনা ছাড়া কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কোন ক্ষমতার দাপটে বেলাল এই জঘন্য কাজ করেছেন?

লিখিত বক্তব্য বলা হয়, হকার্স ইউনিয়নের নেতা, পল্টনে বই বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেনকে ডিভি পুলিশ গত ১৩ জানুয়ারি ম্যাগাজিন পত্রিকা বিক্রির অপরাধে গ্রেফতার করেন। দেলোয়ারকে দিয়ে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর ষড়যন্ত্র চলছে। দীর্ঘদিন জেলে থাকার ফলে দেলোয়ারের পরিবার অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছে। দেলোয়ারের পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ নেই। তিনি অবিলম্বের হকার্স নেতা দেলোয়ারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *