Friday, May 14, 2021
Home > খেলাধূলা > চালকের আসনে বাংলাদেশ

চালকের আসনে বাংলাদেশ

এপিপি বাংলা : দিনটা মুমিনুল হকের জন্য যত বড়, বাংলাদেশের জন্যও ঠিক তত বড়। মুমিনুল পাল্লেকেলেতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিদেশের মাটিতে শতকের পতাকা উড়িয়েছেন। বাংলাদেশ তার ব্যাটে রানের পাহাড়ের চূঁড়ায়। দীর্ঘসময় পর বিদেশ ভূঁইয়ে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে শাসন করার তৃপ্তি প্রত্যেকের চোখেমুখে।

দাপুটে ব্যাটিংয়ে দ্বীপরাষ্ট্রে আরেকটি প্রশান্তির দিন কাটল বাংলাদেশের। বৃষ্টি, আলোক স্বল্পতায় দিনের খেলার ২৫ ওভার খেলা হয়নি। বাকিটা সময় স্বাগতিকদের নির্বিষ বোলিংয়ে বাংলাদেশ রান তুলল অনায়েস। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের পুঁজি ৪৭৪ রান।

আগের দিন সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন শান্ত। মুমিনুল অপরাজিত ছিলেন ৬৪ রানে। দুজনের সতর্ক ব্যাটিং আশা দেখায় বড় কিছুর। দ্যুতি ছড়িয়ে তারা এগিয়ে যান। ধারাবাহিক ব্যাটিং দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেননি। প্রথম সেশনে শান্ত দেড়শ রান পেরিয়ে যান। মুমিনুল পেয়ে যান আরেকটি ম্যাজিকাল থ্রি ফিগার।

পাল্লেকেলের ২২ গজে মাঠে নামার আগে তার নামের পাশে ছিল ১০ সেঞ্চুরি। কিন্তু দেশের বাইরে কোনো সেঞ্চুরি নেই। ব্যাটিং গড়ও যাচ্ছেতাই। দেশের মাটিতে ৫৬.৩৯, বিদেশে মাত্র ২২.৩০। মুমিনুল এবার নিজেকে হতাশ করলেন না। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বল কাট করে পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৯৭ থেকে পৌঁছলেন সেঞ্চুরিতে। হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ১১৭ বলে। সেঞ্চুরির জন্য ছিল আরও ধৈর্য, ক্ষুধা ও প্রচেষ্টা। খেলেছেন আরও ১০৭ বল। তাতেই বাজিমাত।

আরেক প্রান্তে শান্ত রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে ইনিংস বড় করছিলেন। দুজনের জুটি বড় থেকে দীর্ঘতম হচ্ছিল। ভাঙছিল রেকর্ড। তাতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডও হচ্ছিল সমৃদ্ধ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত করে উইকেট ভাঙেন লাহিরু কুমারা। ডানহাতি পেসারের লেন্থ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন শান্ত।

বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসটি থেমে যায় ১৬৩ রানে। ১৭ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। আর ১৯ রান করলে দেশের হয়ে অভিষেক সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়তে পারতেন তিনি। যেটি এখনও মুমিনুলের দখলে। ২০১৩ সালে মুমিনুল নিজের অভিষেক সেঞ্চুরিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রান করেছিলেন।

শান্তর বিদায়ে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে তাদের করা ২৪২ রানের জুটি। যা দেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সবচেয়ে বেশি রান। একই সঙ্গে যে কোনও উইকেটে বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ জুটি। এর আগে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল ২৩৬ রানের। মুশফিক ও মুমিনুল চট্টগ্রামে করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এদিকে বলের হিসেবে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। শান্ত ও মুমিনুলের ২৪২ রান এসেছে ৫১৭ বলে। ২০১৩ সালে মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকের ২৬৭ রান হয়েছিল ৫১৮ বলে।

সঙ্গী হারানোর পর মুমিনুল নিজের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। ধনাঞ্জয়ার বল কভার ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে থিরিমান্নের হাতে ক্যাচ দেন ১২৭ রানে। ৩০৪ বলে ১১ বাউন্ডারিতে সাজান ইনিংসটি। থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর দলের হাল ধরেন মুশফিক ও লিটন। তাদের জুটিও উইকেটে জমে গেছে। ৯১ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েছেন তারা। মুশফিক ৪৩ ও লিটন ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

দুইদিনের জমাট জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিল রানের চাকা। কিন্তু কালো মেঘে ঢেকে যায় গোটা পাল্লেকেলে। তাতে খেলার সুযোগ ছিল না মোটেও। শেষমেশ দিনের খেলা শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে খেলা শেষ করেন আম্পায়াররা।

ব্যাট হাতে আরেকটি প্রশান্তির দিন কাটিয়ে নিশ্চয়ই তৃপ্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ। হাসি ফুটেছে ড্রেসিংরুমেও। এবার শুধু এগিয়ে যায়। ব্যাটসম্যানরা প্রথম লড়াইয়ে এগিয়ে গেছেন। পাল্লেকেলেতে ফল পেতে বোলারদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে রাহী, ইবাদত, তাসকিন ও তাইজুলদের।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *