Monday, August 2, 2021
Home > আন্তর্জাতিক > জাতিসংঘে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইল বাংলাদেশ

জাতিসংঘে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইল বাংলাদেশ

এপিপি বাংলা : ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি চেয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার এক যৌথ আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসক দল হামাসসহ অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হলো।

আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের হানার পরিপ্রেক্ষিতে হামাস রকেট ছোড়ে ইসরায়েলে। এর জেরে গত ১০ মে থেকে গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

যুদ্ধবিরতি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার আগে টানা ১১ দিনের হামলায় গাজায় ২৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৬৫ শিশু ও হামাস যোদ্ধা রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছে এক হাজার ৯০০ মানুষ। অন্যদিকে ইসরায়েলে হামাস ও অন্য সংগঠনগুলোর রকেটে ১২ জন নিহত হয়।

দুই পক্ষের এ যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল শুরু থেকেই তৎপরতা শুরু করে। তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর বৃহস্পতিবার অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস।

শিশু ও নারীসহ নিরপরাধ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যে চিঠি দিয়েছিলেন, সে কথা সাধারণ পরিষদকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

প্রধানমন্ত্রীর লেখা সেই চিঠির উল্লেখ করে ফাতিমা পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার রক্ষার প্রতি বাংলাদেশের অবিসংবাদিত প্রতিশ্রুতির কথা তিনি ফের উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অবিলম্বে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানান। ধারাবাহিকভাবে এই অবিবেচনাপ্রসূত সহিংসতার প্রতি ধিক্কার জানান।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকার প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিন সমস্যার ব্যাপকভিত্তিক, ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কিছু অগ্রাধিকার বিষয় তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। ‌

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা নেয়া, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদকে তাদের চার্টার অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করা, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব ২৩৩৪(২০১৬)সহ এ বিষয়ের সব প্রস্তাব ইসরায়েলকে পরিপালন করাতে বাধ্য করা। এ ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিতে সব পক্ষের সঙ্গে জাতিসংঘকে আরও নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জরুরিভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক প্রয়োজনগুলো মেটানোর প্রতি জোর দিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় সৃষ্ট জাতিসংঘের রিলিফ ফান্ডের (ইউএনআরডব্লিউএ) সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আগ্রাসী ইসরায়েলি বাহিনীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এটি হবে প্রথম পদক্ষেপ।

জাতিসংঘের শতাধিক সদস্যরাষ্ট্র দিনব্যাপী আলোচনায় অংশ নেয়। সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ছাড়াও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *