Thursday, July 29, 2021
Home > আঞ্চলিক সংবাদ > হেফাজতের তাণ্ডবের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা

হেফাজতের তাণ্ডবের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা

মোঃ শামসুদ্দিন জুয়েল : গত ২৬শে মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় নেতৃত্ব দানকারী হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারক উল্লাহ’র গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামী মঙ্গলবার (১ জুন) সকাল ১১টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন।

বুধবার (২৭ মে) রাতে শাহাদাত শোভনের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে স্টাট্যাস এর মাধ্যমে ঘোষণা দেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই প্রথম হেফাজত ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচির ডাক দিল কেউ।

শাহদাত শোভনের দেয়া ফেইসবুক স্টাট্যাস’টি হুবহু তুলে ধরা হল- 

“আজ থেকে ঠিক দুই মাস আগে এটি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থান। রাতে-দিনে যে স্থানে ছিল হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা। মুখরিত ছিল প্রতিটি মুহুর্ত। ঠিক দুই মাস পরে দেখাচ্ছে শত বছরের পুরনো জরাজীর্ণ এক নগরী। ধ্বংসবিধ্বস্ত এক নগরী। এটি আমাদের সকলের পরিচিত স্থান প্রাণের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন।যা গত ২৬/৩/২১ তারিখে হেফাজতে-জামাত ইসলাম এর তাণ্ডবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুধু ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার না পুরো বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন বিনষ্টকারী, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংসযজ্ঞে পরিনতকারীদের অন্যতম মূল খলনায়ক ও নেতৃত্ব দানকারী ধর্মব্যবসায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধ্বংসকারী সাজেদুর রহমান ও মোবারক উল্লাহ’র গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুনঃনির্মাণ/পুনঃসংস্কারের দাবিতে, সরকার ঘোষিত লকডাউন শেষে আগামী ১/৬/২০২১  তারিখে সকাল ১১ ঘটিকায় আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণকে পাশে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানাচ্ছি। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আমাদের, এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের। হেফাজতি জামাতি তাণ্ডবীদের না, এটি জানান দেওয়ার সময় এসেছে। সময় এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসির এটি জানান দেওয়ার যে, আমরা কি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধ্বংসের পক্ষে নাকি বিপক্ষে?আমরা কি শান্তির পক্ষে নাকি হেফাজতি তাণ্ডবিদের উগ্রতার পক্ষে? তবে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তান্ডবিদের প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে যোগ দেই। কেউ থাকুক বা না থাকুক আমি থাকবো।আল্লাহ সর্বশক্তিমান,জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গিয়ে হেফাজতের ব্যানারে মাদ্রাসার ছাত্ররা গত ২৬ মার্চ বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ওই দিন বিক্ষোভকারীরা বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে হামলা চালিয়ে জাতির জনকের ম্যুরাল, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশসুপারের বাসভবন, জেলা জজের বাসভবন, জেলা সিভিল সার্জনের অফিসসহ ভাংচুরসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

এ ছাড়াও ২৮ মার্চ হরতাল চলাকালে হরতাল সমর্থকরা শহীদ ধীরেন্দ্রসনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, সুর সম্রাট স্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মৃত্যুপুরীরেত পরিণত করে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *