Friday, June 18, 2021
Home > আন্তর্জাতিক > ইউরোপকে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ইউরোপকে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এপিপি বাংলা : সংক্রমণ কমেছে ইউরোপে। তাই ব্রিটেন, জার্মানিসহ অনেক দেশই আর মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আগের মতো কড়াকড়ি করছে না। জার্মান সরকার ঘরে বা বাইরে কোথাও আর মাস্ক পরার দরকার নেই জানিয়ে দিয়েছে। ব্রিটেনেও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক নয়। গ্রিস ও স্পেনে দেশি বিদেশি পর্যটকদের ঢুকতে আগের মতো বাধা নেই। আর এখানেই অশনি সঙ্কেত দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

সংস্থার ইউরোপ শাখার প্রধান হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, ‘ইউরোপের বুঝা উচিত, বিপদ এখনও কাটেনি।’ খবর রয়টার্সের।

ইউরোপে করোনা সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে টিকা দেয়াও চলছে জোরেসোরে। জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি টিকা নেওয়া হয়ে গেছে ধনী দেশগুলোতে। এই কারণে করোনাবিধিও লঘু করে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন দেশে। সামজিক দূরত্ব তো রক্ষা করা হচ্ছেই না, বরং মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় বেরোচ্ছে লোকজন। ফ্রান্সে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া চলছে। এক জায়গায় জড়ো হচ্ছেন বহু মানুষ। সামাজিক উৎসব-অনুষ্ঠানেরও আয়োজন চলছে নিশ্চিন্তে।

ক্লুগ বলেছেন, ‘সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু— এ সব কমলেও মানুষ যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত হচ্ছে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে নির্দ্বিধায় চলা ফেরা শুরু করেছে, তাতে বিপদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। প্যারিসে এখন ফরাসি ওপেন চলছে। শনিবার থেকে ইউরোপিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ । তাতে মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খেলা দেখতে আসবেন দর্শক। বিভিন্ন দেশের দলও আসবে। সামনের মাসে ব্রিটেনে উইম্বলডন শুরু হবে।’

ক্লুগ আরও বলেন, ‘ইউরোপে গত ৬ মাসে ৪০ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রীষ্মে এর গতি আরও বাড়াতে হবে। কমপক্ষে ৮০ ভাগ মানুষের টিকা নেওয়া হয়ে গেলে কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে। তার আগে কেউই সুরক্ষিত নন বলে সতর্ক করে দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ শাখার প্রধান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ধনী দেশগুলোতে টিকা প্রদানের হার বেশি হলেও পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে এই হার ১৭ শতাংশও হবে না। আর টিকার এক ডোজ পাওয়া মানুষের হার ৩০ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যাদের দুটো ডোজ় নেওয়া হয়েছে তাদের আর মাস্ক না পরলেও চলবে। দেশটির সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি বলেছেন, ‘যারা এখনও টিকা পাননি, তাদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আগের থেকে বেশি। প্রতিষেধকহীনদের শরীরে আরও বেশি করে জাঁকিয়ে বসবে ভাইরাস। মিউটেশন ঘটিয়ে নতুন ভ্যারিয়্যান্ট তৈরি করবে।’

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসিও বলেন, ‘আলফা স্ট্রেন (ব্রিটেন বা কেন্ট স্ট্রেন) থেকে বেঁচে ফেরার পর এখন আমরা ডেল্টা স্ট্রেনে আক্রান্ত হতে চাই না। ল্যাটিন আমেরিকায় করোনায় ৪ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মৃত্যুর দেশ ব্রাজিলও বলেছে, তারা আর মাস্ক পরার নিয়ম মানার প্রয়োজন দেখছে না। প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেছেন, যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছেন এবং যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের আর মাস্ক পরতে হবে না।’

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *