Wednesday, August 4, 2021
Home > খেলাধূলা > লজ্জায় ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছি : পাপন

লজ্জায় ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছি : পাপন

এপিপি বাংলা : শুক্রবার থেকেই খবরের শিরোনামে মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অক্রিকেটীয় কাণ্ড।

এদিন আবাহনীর বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৩৭ রান পেলেও বল হাতে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেন সাকিব।

আবাহনীর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় মুহূর্তেই ক্ষেপে যান সাকিব।

প্রথমে লাথি মেরে উইকেট ভাঙেন, এর পর আম্পায়ারের দিকে তেড়ে গিয়ে তর্ক করেন। এমনকি পরে উইকেট উপড়ে নিয়ে আছাড়ও মেরেছেন তিনি। এতে ক্ষান্ত হননি, আবাহনীর ড্রেসিংরুমের দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে তাদের কোচ খালেদ মাহমুদের দিকে তেড়ে গেছেন।

সাকিবের এমন কাণ্ডে যারপরনাই হতাশ ও বিব্রত বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে মোবাইল ফোনে নাজমুল হাসান সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি জানান, সাকিবকাণ্ডে দেশের বাইরে থেকে অনেক ফোন পাচ্ছেন। কিন্তু কী জবাব দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

নাজমুল হাসান বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে এ ঘটনা এত দেশে ছড়িয়ে গেছে যে, আমাকে ক্রিকেট খেলুড়ে সব দেশ থেকে ফোন করছে। আমি ফোন ধরছি না। এগুলোর সমাধান না হলে ঘরোয়া লিগ খেলার কারণ দেখি না আমি। লজ্জার চরম জায়গায় পৌঁছে গেছি আমরা। ঘরোয়া লিগে আগেও কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবার একদম চরম বেইজ্জতি।’

এদিকে মাঠে আম্পায়ারের সঙ্গে সাকিবের দুর্ব্যবহারের ঘটনায় ঘরোয়া লিগে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। অনেকেই সাকিবের পক্ষ নিয়ে ঘরোয়া লিগে আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলছেন।

উইকেটে লাথি মারাকে সাকিবের দুর্নীতির প্রতিবাদ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরের কেউ তো এসব সমর্থন করছে না, যা সমর্থন সব আমাদের দেশেই।’

পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং নিয়ে চলে আসা অভিযোগ প্রসঙ্গে বিসিবি বস বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট যদি এতটা দুর্নীতিতে ডুবে থাকে, তা হলে খেলার দরকার কি? যতক্ষণ পর্যন্ত মীমাংসা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত খেলার তো দরকার নেই।’

তবে ঘরোয়া লিগে যে কোনো দুর্নীতিই হয় না, এমন দাবিও করছেন না পাপন।

তিনি বলেন, ‘আম্পায়ারিং নিয়ে এর আগে অভিযোগ ছিল। ক্যামেরা লাগানোর পর তো এসব অভিযোগ বন্ধ হয়েছে। এর পর একবারও শুনিনি। তবে আবার যেহেতু আম্পায়ারিং নিয়ে কথা উঠেছে আমি জানতে চাই ক্লাবগুলো থেকেই তাদের কোনো অভিযোগ আছে কিনা। কিন্তু আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো ক্লাবই অভিযোগ করেনি এখন পর্যন্ত।’

উল্লেখ্য, শুক্রবারের ঘটনায় আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের ভিত্তিতে সাকিবকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ও পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, ‘আসলে ঠিক কী কারণে সাকিব এমন ঘটনা ঘটাল সেটি জানতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসুক তার পর দেখা যাবে।’

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *