Monday, June 27, 2022

এপিপি বাংলা : সিলেটের জকিগঞ্জে দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এতথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেটের জকিগঞ্জে দেশের ২৮ তম গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। উত্তোলনযোগ্য মজুদ ৫০ বিলিয়ন ঘনফুট, দৈনিক ১০ মিলিয়ন করে যুক্ত হবে গ্রিডে। দশ থেকে বারো বছর গ্যাস উত্তোলন সম্ভব, যার দাম ১২৭৬ কোটি টাকা।

গত ১ মার্চ এখানে কূপ খনন শুরু করে বাপেক্স। ৭ মে কূপ খনন শেষ হয় । গত ১৫ জুন ডিএসটি (ড্রিল স্টিম টেস্ট) গ্যাসের শিখা জ্বালাতে সক্ষম হয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটি।

কূপটির অভ্যন্তরে চাপ রয়েছে ৬ হাজার পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি) আর ফ্লোটিং চাপ রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি।এরপর পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে সোমবার জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে জকিগঞ্জকে দেশের ২৮ তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা কর হলো৷

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি বাপেক্সের অষ্টম সাফল্য ৷ এই কূপে চারটি স্তরে পরীক্ষা করে একটি স্তরে বাণিজ্যিক ভাবে উত্তোলন যোগ্য গ্যাস পাওয়া গেছে। মাটির ২৮৭০ থেকে ২৮৯০ মিটার গভীরে এই গ্যাস স্তর অবস্থিত। এই কূপ খননে বাজেটরছিলো ৮৬ কোটি টাকা , ব্যয় হয়েছে ৭১ কোটি টাকা।

নতুন এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে বিয়ানীবাজার ও ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র অবস্থিত। জকিগঞ্জ থেকে বিয়ানিবাজার বা কৈলাসটিলা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের পর  জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে ৷

বাপেক্স এমডি জানান, এই গ্যাসক্ষেত্রে সামনের শুষ্ক মৌসুমে টুডি থ্রিডি সিসমিক সার্ভে চালানে হবে। এরপর পুরো গ্যাসক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ আকার কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। যার উপর ভিত্তি করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে এর আগে পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ টিসিএফ, আরও ৬ টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুদ। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রমাণিত মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ টিসিএফ, আর সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে আরও ৭ টিএসএফ’র মতো।

১১৩টি কূপ দিয়ে প্রতি বছরে উত্তোলিত হচ্ছে প্রায় এক টিসিএফ’র মতো। এরমধ্যে দেশীয় কোম্পানির ৭০টি কূপের (দৈনিক) ১ হাজার ১৪৫ এমএমসিএফডি, আইওসির ৪৫টি কূপের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট)। দৈনিক কমবেশি ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *