Tuesday, August 9, 2022
Home > জাতীয় সংবাদ > পদ্মা সেতু পার হতে বাইকারদের বিক্ষোভ

পদ্মা সেতু পার হতে বাইকারদের বিক্ষোভ

এপিপি বাংলা : পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের প্রথম দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়। যার কারণে সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে সেতু বিভাগ।

নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেশ কয়েকজন বাইকার জোর করে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। এসময় বাইকাররা সেতু পার হতে বিক্ষোভও করেন।

সোমবার (২৭ জুন) সকালে মাওয়া টোল প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টোল প্লাজার সামনে মোটরসাইকেল বাড়তে থাকে। পুলিশ তাদেরকে চলে যেতে বললেও কয়েকজন বাইকার জোর করে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা বিক্ষোভ করে টোল প্লাজা বন্ধ করে দেয়। যদিও পুলিশের তৎপরতায় তাদের সরিয়ে দেয়ার পর গাড়ি চলাচল করছে।

বাইকাররা বলছেন, সেতুতে মোটরসাইকেল বন্ধের নির্দেশনা তারা জানতেন না। না জেনে এসে তারা আটকা পড়েছেন। তারমধ্যে ফেরিও বন্ধ। ফলে ওপারে যেতে পারছেন না তারা। তাদের দাবি, আমাদের টাকায় সেতু, আমরা যেতে পারবো না কেন? অনিয়ম করলে শাস্তি দিক, তাই বলে মোটরসাইকেল বন্ধের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

পুলিশ বলছে, ফেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ফেরি চালুর ব্যবস্থা করেছেন তারা।

এদিকে পদ্মা সেতুর খুলে দেয়ার প্রথম দিনে (রোববার) ব্যাপক বিশৃঙ্খলায় দেখা দেয়। নিয়ম ভেঙে সেতুতে ছবি তোলা, টিকটক বানানো, নাটবল্টু খোলা, মূত্র বিসর্জন, টোল প্লাজার ব্যারিয়ার ভাঙন ও মালামাল-যন্ত্রপাতি চুরির মতো নানান ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সেতুতে এমন বিশৃঙ্খলা দেখে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনা দেয়া হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে চলবে না মোটরসাইকেল। ছবি তুললে গুনতে হবে জরিমানা। নিয়ম মানাতে সোমবার ভোর ৬টা থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হলো। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাংশের সংযোগ ঘটেছে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে রয়েছে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত দেশটির সবচেয়ে বড় এ সেতু।

পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে স্বপ্নের এ সেতু। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *