Friday, September 30, 2022
Home > জাতীয় সংবাদ > বিএনপির আন্দোলন মানে পুলিশকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ আর গন্ডগোলের চেষ্টা : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির আন্দোলন মানে পুলিশকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ আর গন্ডগোলের চেষ্টা : তথ্যমন্ত্রী

এপিপি বাংলা : তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি’র আন্দোলনের নমুনা হলো, আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারি করা, পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা, সারাদেশে গন্ডগোল করার অপচেষ্টা চালানো।’

তিনি আরো বলেন, ‘নামসর্বস্ব যেসব রাজনৈতিক দলের সাথে তারা সংলাপ করেছে, সেগুলোর বাস্তবিক অর্থে কোনো অস্তিত্ব নেই, আছে শুধু সাইনবোর্ড। তারা এই সমস্ত দল নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে বলে ঘোষণাও দিয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও এরকম একটি ঐক্য তারা করেছিল যার ফলাফল হচ্ছে নির্বাচনে বিএনপির পাঁচটি আসন। এ সব দলকে নিয়ে আন্দোলন করলে অতীতে যেমন জনগণ সাড়া দেয়নি, এবারও দেবে না।’

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীতে সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের বিএনপির আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপিকে সরানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না সে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠ থেকে তো কাউকে কেউ সরাতে পারে না, নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের মাঠ থেকে ২০১৪ সালে বিএনপি পালিয়ে গিয়েছিল এবং ২০১৮ সালে নির্বাচনের মাঠ থেকে পালিয়ে গিয়ে পরে নির্বাচনের ট্রেনের পাদানিতে চড়ে নির্বাচনে গিয়েছিল। তো এবার তারা নির্বাচনের ট্রেনের পাদানিতে চড়বেন না কি ট্রেনে চড়বেন সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক, তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুক।’

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে আবারো সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধিনে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কমিশন। আর সংবিধান অনুযায়ী অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কন্টিনেন্টাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যে সরকার দেশ পরিচালনা করছিল সেই সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, আমাদের দেশেও তাই হবে। অন্য কোনো বায়না ধরে কোনো লাভ নেই। মির্জা ফখরুল সাহেবকে তাদের কর্মীরা যেহেতু সাড়া দিচ্ছে না সেজন্য তাকে গরম বক্তৃতা দিতে দেখা যাচ্ছে।’

এর আগে মন্ত্রী আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটি আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে’র (International Conference on Environmental Protection for Sustainable Development- ICEPSD-2022) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন।

‘সবুজ বাংলাদেশ-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ (Green Bangladesh-Prosperous Bangladesh) প্রতিপাদ্য নিয়ে এ সম্মেলনের সমাপনীতে ড. হাছান বলেন, সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য প্রয়োজন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই পরিবেশরক্ষার কাজে হাত দেন। ১৯৮২ সালে কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে বনায়ন শুরু করেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিবেশরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকার জন্য সারাবিশ্বে সুপরিচিত।

বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দেশে প্রথম পরিবেশ সুরক্ষা ও বনায়ন নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের পদ প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে দলের প্রথম সম্পাদক ছিলেন বর্তমান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যিনি এক দশক ধরে অত্যন্ত যত্নের সাথে দায়িত্বপালন করেছেন।

অপর বিশেষ অতিথি উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির এই নিয়মিত আয়োজন যেমন দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করছে, তেমনি দেশে-বিদেশেও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী অবস্থান ও কর্মকান্ড তুলে ধরছে।

সম্মেলনের আয়োজক উপকমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমদ, অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত সম্মানিত অতিথি, অধ্যাপক ড. মো: আফতাব আলী শেখ স্বাগত ও আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সমাপনী বক্তা হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন।
———————-
গীতিকার, চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

ঢাকা, রোববার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২:
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বারিধারায় আকস্মিক অসুস্থতায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের (৭৯) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সংবাদে শোকাহত মন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তিকামনা করেন এবং তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান তার শোকবার্তায় বলেন, ‘জীবনভর সঙ্গীত ও কণ্ঠ সাধনার যে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বিশ্বের সঙ্গীতজগতে বিরল। তার অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়েও মানুষের ভালোবাসা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তার শিল্পীসত্তার মৃত্যু নেই।’

ড. হাছান বলেন, ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’, একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’ এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা গীতিকবি সংঘের আজীবন সদস্য মাজহারুল আনোয়ার ২০০২ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।’

পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক বাচসাস পুরস্কারসহ গাজী মাজহারুল আনোয়ারের অর্জিত পুরস্কারের সংখ্যা ১১০ টি। দীর্ঘ ৬০ বছরের সংস্কৃতিসেবায় তিনি ২০ হাজারের বেশি গান রচনা করেছেন। বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তার লেখা তিনটি গান রয়েছে।

Like & Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *